হাইকোর্টের রায় বহাল, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া বৈধ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি করার চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজের হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর আগে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)–এর ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) বিষয়ে আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।
বুধবার (১১ মার্চ) শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
গত ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ (তৃতীয় বেঞ্চ) এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়।
এর আগে গত ২৫ নভেম্বর শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। সেদিন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)–এর ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের ওপর বিভক্ত রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাতেমা নজীব প্রক্রিয়াটি অবৈধ ঘোষণা করলেও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রুল খারিজ করে দেন।
দ্বিমতপূর্ণ এ রায়ের কারণে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে তিনি নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চে বুধবার শুনানি শেষে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার (আজ) দিন ধার্য করা হয়।
উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চট্টগ্রাম বন্দরের একটি কৌশলগত স্থাপনা, যেখানে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ কনটেইনারবাহী পণ্য ওঠানামা করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থায় এনসিটি ও এর পাশের ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য আমিরাতভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
তখন এই সিদ্ধান্ত ঘিরে অর্থনীতিবিদ ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়—কৌশলগত জাতীয় সম্পদ যেখানে জড়িত, সেখানে এমন দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক ইজারা চুক্তি চূড়ান্ত করার আইনগত ও নৈতিক ম্যান্ডেট অন্তর্বর্তী সরকারের আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তারা।
সমালোচকেরা চুক্তির মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং একক দরদাতা নির্ভর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এর বিপরীতে, কর্মকর্তাদের দাবি ছিল—দেশের প্রধান সমুদ্র বাণিজ্যের প্রবেশদ্বারে সক্ষমতা বাড়ানো ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য এই চুক্তি খুবই জরুরি।
তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তিতে স্বাক্ষরের আইনগত ক্ষমতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তাদের টানা কর্মবিরতি এবং কয়েক দফা কর্মসূচির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও জাহাজ চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।
