তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গণতন্ত্রের অস্থায়ী সুরক্ষা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত এ ব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অস্থায়ী সুরক্ষা বলে উল্লেখ করেছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) ৭৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পর চারটি পৃথক রিভিউ আবেদনের ওপরইপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করে রায় ঘোষণা করেন।
সর্বশেষ রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে চালু করা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭-এর সাংবিধানিক ম্যান্ডেটের মধ্যে সৎ উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। 'যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে ডকট্রিন অভ নেসেসিটি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অস্থায়ী সুরক্ষা হিসেবে বৈধতা দেয়।'
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো কোনোভাবেই ধ্বংস হয়নি, বরং সংরক্ষিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে। আদালত বলেন, চতুর্দশ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
তবে বর্তমান সংসদ চাইলে এই ব্যবস্থায় সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে বলে জানান মামলার আইনজীবীরা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, তার রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে রায়ে। এ ব্যবস্থায় সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হবেন। তিনি রাজি না থাকলে, তার আগের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং এরপর আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের মধ্য থেকে ক্রমানুসারে নিয়োগ দেওয়া হবে।
যদি কোনো বিচারপতি উপলব্ধ না থাকেন, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন।
প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন, যারা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হবেন। নতুন সংসদ গঠিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই সরকার দায়িত্ব পালন করবে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতসহ বিরোধীদলগুলোর আন্দোলনের চাপে তৎকালীন বিএনপি সরকার ত্রয়োদশ সংশোধনী পাশ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করে।
তবে ২০১১ সালে তখনকার প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল।
ওই আপিল বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত রায়ে আরো দুটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিলেও পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেই পর্যবেক্ষণ রাখা হযনি, যার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকার সংসদে এ ব্যবস্থার বিধান বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে।
সংক্ষিপ ও পূর্ণাঙ্গ রায়ে অসামঞ্জস্যতার বিষয়ে রেববার প্রকাশিত পূর্ণঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেছেন, 'আদালত এই মর্মে মত পোষণ করে যে সংক্ষিপ্ত আদেশ ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের মধ্যে যে অসামঞ্জস্য রয়েছে, তা রেকর্ডে প্রতীয়মান একটি ত্রুটি।'
