এমন বিচারব্যবস্থা গড়তে হবে যেন ফেরিওয়ালা বা রিকশাচালকও আদালতের প্রতি আস্থা রাখে: বিচারপতি মইনুল
গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারি-এর সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, এমন একটা বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে ঢাকার একজন ফেরিওয়ালা বা খুলনার একজন পোশাকশ্রমিক বা সিলেটের একজন রিকশাচালকও যেন বলতে পারেন আমরা আদালতের প্রতি আস্থা রাখি, আমরা বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখি।
তিনি আরও বলেছেন, ন্যায়বিচারের সর্বোত্তম নিশ্চয়তা নির্ভর করে বিচারকদের ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা, সক্ষমতা, নিরপেক্ষতা এবং সাহসিকতার ওপর।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম আরও বলেন, 'একজন বিচারককে প্রতিটি মামলা সমান উদ্যম, কঠোরতা এবং নিষ্ঠার সাথে বিচার করতে হবে। প্রতিদিন সকালে যখন বিচারকগণ তাদের পোশাক পরিধান করবেন তখন তাদের সংবিধানের কথাগুলো স্মরণ করা উচিত।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রজাতন্ত্র হবে এমন এক গণতন্ত্র যেখানে সব মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।'
কর্মশালায় ঢাকাস্থ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের চিফ অফ মিশন হুমা খান উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, 'বিচারকদের নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গুমের ভিক্টিমদের করুণ পরিণতি এবং তাদের পরিবারের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে।'
ভূক্তভোগীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, 'আমি যেসব ভিক্টিম পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অধিকাংশই সামাজিক চাপ ও মানসিক কষ্টে ভুগছে। মামলা পরিচালনায় ভয়ভীতি, তদন্ত জটিলতা এবং প্রভাবশালী মহলের চাপ ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।' এসময় তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে কাজ পরিচালনার জন্য গুম সংক্রান্ত কমিশনের সার্বিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং কমিশনের সভাপতি ও সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী বলেন, 'গুম-সংক্রান্ত মামলাগুলোর কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি।' তিনি জানান, কমিশন ইতোমধ্যে বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে গুম সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, সাক্ষী সুরক্ষা ও ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে।
কর্মশালায় কমিশনের সদস্য মো. নূর খান বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে ভিক্টিমদের অধিকার নিশ্চিতকরণ ও ভিক্টিমদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে সেশন পরিচালনা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।
পরবর্তীতে ওয়ার্কিং সেশন পরিচালনা করেন কমিশনের সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস।
