এনবিআরের আন্দোলনে বরখাস্তদের বিষয়ে ইতিবাচক সমাধানের চিন্তা: অর্থ উপদেষ্টা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পৃথক করার প্রেক্ষাপটে আন্দোলনে যুক্ত হওয়া বরখাস্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, 'যতটুকু সম্ভব সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। যা হয়ে গেছে, সেটি নিয়ে কিছু ইতিবাচক চিন্তা করা হবে। কারণ কাজের পরিবেশ ভালো না থাকলে কর্মস্পৃহা কমে যাবে।'
শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, 'ওই আন্দোলনের সময় সরকার দুই মাস ধৈর্য ধরেছে। তখন বিভিন্ন কর্মকর্তার বিষয়ে নানা অভিযোগ আসলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করা হয়নি।'
তিনি বলেন, 'একটা বিষয়ে বিবেচনা করা হতো যে এই চাকরির ওপরই তাদের রুটি-রুজি নির্ভর করে।'
এনবিআরের আন্দোলনের ওই ঘটনার পর অনেকেই অর্থ উপদেষ্টাকে নিয়ে নানাভাবে সমালোচনা করছেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। তবে ফেসবুকে এনবিআরের কর্মকর্তাদের অনেকেই অনেক লেখালেখি করেন।'
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকায় সেগুলো পড়ে দেখা হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, 'বিদেশ থেকে আমার আত্মীয়-স্বজন জানায় যে এনবিআরের কর্মকর্তারা আমাকে নিয়ে এমন সব লেখালেখি করেন, যেগুলো দেখলে ত হয়তো মেনে নিতে পারব না, মাথা নষ্ট হয়ে যাবে।'
এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের পর 'কৌশলে এনবিআরের কর্তৃত্ব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে' এমন অভিযোগ তুলে কর্মকর্তারা আন্দোলনে নামেন এবং গত জুনের শেষ দিকে এক পর্যায়ে বন্দরও অচল করে দেন।
এরপর সরকার কঠোর অবস্থানে যায় এবং কর্মকর্তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন । তবে ওই ঘটনার জেরে এ পর্যন্ত ২০ জনের বেশি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ফোর্স লিভে পাঠানো হয়েছে আরও অন্তত পাঁচ জন কর্মকর্তাকে। শত শত কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলেও এনবিআরে আলোচনা রয়েছে।
