আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে বিএনপি-জামায়াতের ইতিবাচক মনোভাব
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয় দলই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঢাকা সফররত আইএমএফের পর্যালোচনা মিশনের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও আজ (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'মিশনের অবস্থানকালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে তাদের সংস্কার কর্মসূচি, দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।'
তিনি জানান, এই দুই দলের নেতারা আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি চালু রাখার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। এছাড়া, নির্বাচন ও ট্রানজিশন প্রক্রিয়া, দলগুলোর অগ্রাধিকার এবং তা বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাত সংস্কারকে স্বীকৃতি দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন ক্রিস পাপাজর্জিও।
নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর রিভিউ শেষে আগামী বছরের মে মাসের শেষে ৫.৬ বিলিয়ন ডলার ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। তার আগে সংস্থাটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।
সংস্থাটি থেকে নেওয়া ঋণের পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের আগে ঋণ চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ১৩ দিন ধরে রিভিউ শেষে ঢাকা ছাড়ার আগে আজ সন্ধ্যায় আয়োজিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশে আইএমএফ মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও।
বাংলাদেশের ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতিকে 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক' বলে উল্লেখ করে এই আইএমএফ কর্মকর্তা বলেন, 'যদিও দুই বছর আগের দ্বিগুণ অঙ্কের মূল্যস্ফীতি এখন ৮ শতাংশে নেমে এসেছে, তবুও এটি এখনও বেশি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কষ্টকর। মূল্যস্ফীতির হার ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা না পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছে আইএমএফ।'
এ ছাড়া, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়াতে রাজস্ব আহরণে জোর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে, গত ৯ নভেম্বর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আর্থিক ও সামাজিক খাতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। ১২ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনীতি ও সামগ্রিক আর্থিক খাতের অবস্থা নিয়ে কথা বলে তারা।
