কাকরাইলে জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষ হয়।
ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
জাপা নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গণঅধিকার পরিষদের মিছিল থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে গণঅধিকার পরিষদের পাল্টা অভিযোগ, মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার নেতাকর্মীরাই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে উসকানি দেয়।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ জানান, আওয়ামী লীগের দোসরদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে তারা পল্টন জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল নিয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ার পথে যাচ্ছিলেন। এসময় জাপার কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের মিছিলে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। তখন সেখানে ৩০০–৪০০ জন অবস্থান করছিল বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, জাপার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষের সময় পুলিশের হামলার নুরুল হক নুর সহ গণঅধিকার পরিষদের অন্তত ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নুরসহ অধিকাংশ আহতদের কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, গণঅধিকার পরিষদের একটি 'বেআইনি মিটিং' ছিল, যেখানে জাপার নিবন্ধন বাতিল ও চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। তার মতে, এ ধরনের সভা বেআইনি ও রাজনৈতিক উস্কানিমূলক।
তিনি অভিযোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের মিছিল থেকে জাপার নেতাকর্মীদের ওপর ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং এতে তাদের কয়েকজন আহত হন। পরে জাপা নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা সরে যায়।
শামীম হায়দার আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।