হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে মোদির প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক ছিল না: শফিকুল আলম

ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে মোদির প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আজ (৫ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল লিখেছেন, "যখন অধ্যাপক ইউনূস শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপন করেন, তখন মোদির প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক ছিল না। আমরা আশাবাদী, শেখ হাসিনা একদিন ঢাকায় প্রত্যর্পণ হবেন এবং আমরা শতাব্দীর সেরা বিচার দেখব।"
বৈঠকে মোদি অধ্যাপক ইউনূসের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন বলেও জানান শফিকুল। তিনি আরও বলেন, আলোচনার পুরো সময়জুড়ে মোদি ইউনূসের প্রতি অত্যন্ত সম্মান দেখিয়েছেন।
শফিকুল ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে মোদির দেওয়া আলাপ উদ্ধৃত করে বলেন, "বৈঠকে তিনি [মোদি] বলেছেন যে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ভালো সম্পর্ক থাকলেও, 'আমরা আপনার (ইউনূস) প্রতি তার অসম্মানজনক আচরণ দেখেছি। তবুও আমরা আপনাকে সবসময় সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে গেছি।'"
শফিকুল আরও লিখেছেন, "বৈঠকে এটা স্পষ্ট ছিল, ভারত বাংলাদেশকে ঘিরে এক নতুন কূটনৈতিক পথ খুঁজছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি অধ্যাপক ইউনূসকে একাধিকবার বলেন, ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে নয়!"
"গত কয়েক মাসে একাধিকবার প্রফেসর ইউনূস বলেছেন, আমরা ভারতের সঙ্গে 'সর্বোত্তম সম্পর্ক' চাই। তবে সেটা হতে হবে ন্যায়বিচার, সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে!"
এর আগে শুক্রবার বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বহুল আলোচিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন ও সীমান্তে হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক ইস্যু নিয়ে আলাপ করেছেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের শফিকুল বলেন, "৩০ মিনিটের এই বৈঠক অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। সেখানে দুই নেতা পারস্পরিক আগ্রহের সব বিষয় নিয়েই আলোচনা করেছেন।"
তিনি আরও জানান, বৈঠকে শেখ হাসিনার ভারত থেকে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যে দেওয়ার বিষয়টিও তোলা হয়। এছাড়া, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং তিস্তার পানিবণ্টন নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান শফিকুল।