খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’র বাড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযান, আটক ৩

খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী 'গ্রেনেড বাবু'কে গ্রেপ্তারে নগরীর শামসুর রহমান রোডে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা থেকে শুরু হয়ে ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলা অভিযানে তার বাড়ি থেকে অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে গ্রেনেড বাবুকে না পাওয়া গেলেও তার বাবা মিন্টু চৌধুরী, ছোট ভাই রাব্বি চৌধুরী এবং সহযোগী সৌরভ ও সোহাগের মা সুষমা রানী সাহাকে আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে আটক করা হয়।
খুলনা থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জানান, অভিযানে বাবুর ঘর থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি এবং নগদ ১২ লাখ ১২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে বাড়ির পাশের একটি মন্দির সংলগ্ন স্থানে সৌরভ ও সোহাগের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রির ২৬ লাখ টাকা ও ভারতীয় ৪ হাজার ২৪০ রুপি উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় খুলনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। মামলায় বাবুর বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এছাড়া মানি লন্ডারিং মামলায় সুষমা রানী সাহাকেও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) বিশেষ শাখার প্রতিবেদনে জানা যায়, গ্রেনেড বাবুর প্রকৃত নাম রনি চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে এবং তার গঠিত সন্ত্রাসী গ্রুপের অস্ত্রধারী সদস্য ছয়জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ৩৩টি মামলা। ওই সদস্যরা হলেন মো. শাকিল, মো. সাব্বির শেখ, আসাদুজ্জামান ওরফে বিল রাজু ও বিকুল।
২০১০ সালের ১০ জুন মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর হোসেন কচিকে হত্যা করে গ্রেনেড বাবু। এ ঘটনায় পরদিন কচির বাবা ইলিয়াস বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর বাবু আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
২০২৩ সালের ২৮ মার্চ ওই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার আগেই সে আত্মগোপনে চলে যায়। তবে বিভিন্ন সময় তার সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।