ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশ অস্থিতিশীল হতে পারে, রয়টার্সকে মঈন খান

এবছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত নাহলে— বাংলাদেশ 'অস্থিতিশীল' হতে পারে এবং 'জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ' দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেও ভোট হতে পারে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের সদস্য আবদুল মঈন খান এ মন্তব্য করেছেন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন মঈন খান।
মঈন খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা চলছে, যাতে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা যায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
সাক্ষাৎকারে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, 'আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করব যে, তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন দিয়ে সম্মানজনকভাবে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া।'
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেবে। এর অর্থ হলো—কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে...সময়ই তা বলে দেবে।' এ বছর নির্বাচন না হলে পরিণতি সম্পর্কে কোনো জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতার পক্ষ থেকে এটিই প্রথম সতর্কবার্তা।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে তার দীর্ঘদিনের মিত্র ভারতের পালিয়ে গেছেন। তখন থেকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। এবিষয়ে মঈন খান বলেন, 'সাধারণভাবে, ডিসেম্বরের মধ্যেই একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বরের পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।'
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের বড় দুটি দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ চাইছে এ বছরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু, গত মঙ্গলবার ড. ইউনূসের দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ বছরের ডিসেম্বর অথবা ২০২৬ সালের জুনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ড. ইউনূস বলেছেন, কিছুটা সময় নিয়ে নির্বাচন করলে সংস্কারের সুযোগ পাওয়া যাবে এবং এতে নির্বাচন আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বচ্ছ হবে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ আনে বিএনপি এবং কিছু পশ্চিমা দেশ। যা শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ বরাবরাই অস্বীকার করে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউনূস সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করা ও ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, চলতি বছর নির্বাচন আয়োজন কঠিন। কারণ পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভালো অবস্থানে নেই।
কিন্তু, মঈন খান রয়টার্সকে বলেছেন যে, আমরা চাই এ বছরই গণতন্ত্র ফিরে আসুক।
প্রাক-নির্বাচনি জোট করবে না বিএনপি
শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীরা দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগ মূলত ভেঙে পড়েছে। তার দলের অনেক নেতাই বর্তমানে পালিয়ে পালিয়ে অবস্থান করছে।
এ অবস্থায় পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি (জাতীয় নাগরিক দল)। ছাত্রনেতারা বলছেন, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে ত্যাক্ত-বিরক্ত। এজন্য তারা পরিবর্তন চাইছেন।
তবে মঈন খান বলেছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা গেছে, আগামী এক বছরের মধ্যে কোনো নির্বাচন হলে বিএনপি সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন।
গত কয়েক মাসে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বেশ কয়েকটি মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছে আদালত। ফলে দেশে ফেরার পথ সুগম হয়েছে তারেক রহমানের।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস এবং হার্টের সমস্যা নিয়ে বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। বাংলাদেশে থাকাকালীন তিনি যে অবস্থায় ছিলেন, তার চেয়ে এখন অনেকটা ভালো আছেন। মঈন খান বলেন, খালেদা জিয়া সম্ভবত আর সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না।
তিনি বলেন, জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা বিএনপির নেই। তবে বিএনপি এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর অন্যান্য দলের সঙ্গে কাজ করবে। যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
মঈন খান বলেন, 'নির্বাচনের পর, গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা সকলের সঙ্গে সরকার গঠন করতে আমাদের কোনো সমস্যা থাকবে না।'