জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে কর্মচারীদের মারামারি: ৭ ঘণ্টা পর পঙ্গু হাসপাতালে জরুরি সেবা চালু

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের (পঙ্গু হাসপাতাল) কর্মচারীদের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের মারামারির ৭ ঘণ্টা পর হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে সেবা দেওয়া শুরু হয়েছে।
পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) নিশ্চিত করেছেন।
ডা. গোলাম সারওয়ার বলেন, 'কিছুক্ষণ আগে ইমার্জেন্সি সার্ভিস শুরু হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।'
এর আগে, সোমবার বেলা ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মচারীদের মারামারি হয়। সংঘাতের পর কর্মচারীরা হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ায় জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারগুলো খালি পড়ে ছিল। হাসপাতালে কোনো নার্স, কর্মচারী ছিল না, শুধু চিকিৎসক ছিল।
হাসপাতালের জরুরি সেবাও বন্ধ থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বিকাল ৫টার দিকে টিবিএসকে বলেন, 'আমাদের হাসপাতালের পরিস্থিতি এখনও অনেক খারাপ। আমার একটা অপারেশন করার কথা ছিল, কিন্তু করতে পারছি না। নার্স; এমনকি কোনো পিওনও নাই। হাসপাতালে এখন শুধু ডাক্তার আছে।'
তিনি বলেন, 'আমাদের হাসপাতালে তো দুর্ঘটনায় আহত ক্রিটিক্যাল রোগীরা সারাক্ষণ আসতেই থাকেন। রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ডাক্তারদের মারতে আসতেছে। সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।'
তিনি আরও বলেন,'কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বোঝা যাচ্ছে না। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আমরা একটি রুমে আটকা ছিলাম। আমরা বের হতে পেরেছি। এখনও ডিরেক্টরের রুমে মিটিং চলছে, মিটিং শেষে কি হয় তখন জানা যাবে।'
জানা গেছে, রোববার রাতে ব্লাড ব্যাংকের এক কর্মচারীকে মারধর করেন আহত শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকাল থেকে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর দুপুরে আবার হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে ছাত্রদের মারামারি হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান টিবিএসকে বলেন, 'মারামারির ঘটনায় কয়েকজন হালকা ইনজুরি হয়েছেন।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঙ্গু হাসপাতালে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য টিবিএসকে বলেন, 'রোববার রাতে আউটসোর্সিংয়ের এক কর্মচারীকে আহত ছাত্ররা মারে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কর্মবিরতি শুরু করেন কর্মচারীরা। এ কারণে ছাত্রদের সঙ্গে দুপুরে আবারও কর্মচারীদের মারামারি হয়। রড, লাঠি নিয়ে প্রশাসনিক ভবন ও আউটডোরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।'
পঙ্গু হাসপাতালে বর্তমানে দুটি ওয়ার্ডে ১০০ জনের বেশি জুলাই আন্দোলনে আহত ভর্তি আছে।