কর হ্রাস, নতুন গ্যাস সংযোগ ফের চালু ও হয়রানি বন্ধের দাবি রেস্তোরাঁ মালিকদের
আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে টিকে থাকতে ভ্যাট হ্রাস, নতুন গ্যাস সংযোগ চালু করা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার 'হয়রানি' বন্ধের দাবি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা দাবি পেশ করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভ্যাট ও করের হার 'সহনীয় পর্যায়ে' রাখা, চলমান এলপিজি সংকটের সমাধান, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ আবার চালু করা, লাইসেন্স ও পারমিটের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা এবং ট্রেড ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাত এখনো কোভিড মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর ওপর বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে ব্যবসার খরচ আরও বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, 'দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে গেছে। এর সরাসরি এবং নেতিবাচক প্রভাব এখন পুরো রেস্তোরাঁ খাতের ওপর পড়ছে।'
ইমরান বলেন, ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি, ক্রেতার সংখ্যা হ্রাস ও সার্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেক রেস্তোরাঁকে কঠিন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
রেস্তোরাঁ মালিকরা বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে আলোচনার পর এ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হলেও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, উৎসে কর ও অন্যান্য শুল্কের কারণে ব্যবসায়ীরা এখনো হিমশিম খাচ্ছেন।
আগামী বাজেটে উৎসে কর প্রত্যাহার এবং ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সার্ভিসের জন্য ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে সমিতি।
ইমরান হাসান বলেন, উচ্চ কর হার করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে এবং করফাঁকির প্রবণতা বাড়ায়। তিনি যুক্তি দেন, করের হার কমিয়ে এর আওতা বাড়ালে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।
সমিতির দাবি অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ এখনো অনিবন্ধিত। এর মধ্যে অনেক রেস্তোরাঁ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এবং কর না দিয়েই ব্যবসা করছে।
রেস্তোরাঁ মালিকরা আরও বলেন, চলমান এলপিজি সংকট এই খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করছে এবং খাবারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা সরকারকে এলপিজি আমদানি বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং নতুন পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করার অনুরোধ জানান।
রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সমিতি।
তাদের তথ্যমতে, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ খুলতে ১০ থেকে ১২টি ভিন্ন ভিন্ন সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাস সময় লেগে যায়।
অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন সেবা পুনরায় চালু করা, এ খাতে 'কর্পোরেট আগ্রাসন' বন্ধ করা, গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া এবং অদক্ষ রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা।
