যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশের ২,৫০০ পণ্য
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির (এআরটি) আওতায়, দেশটির ৭ হাজার ১৩২টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ২৫০০টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ফেসবুকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের করা এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।পোস্টে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশি পণ্যের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কৃষি, প্লাস্টিক, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি সই হয়। পরদিন চুক্তির কপি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু (ম্যান মেইড ফাইবার) আমদানি করে তা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। এই বাণিজ্যিক সুবিধার বিপরীতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনার এই শর্ত মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ৭ হাজার ১৩২ শ্রেণির পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চার ধাপে যুক্তরাষ্ট্রকে এই শুল্কসুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাড়ে চার হাজার পণ্য আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক শূন্য করতে হবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকেই এই সুবিধা কার্যকর করতে হবে বাংলাদেশকে।
দ্বিতীয়ত, ১ হাজার ৫৩৮ শ্রেণির পণ্যে চুক্তি কার্যকরের দিন থেকেই শুল্ক ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক কমাতে হবে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ চার বছরে সমান হারে কমিয়ে পঞ্চম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে তা শূন্য করে ফেলতে হবে।
তৃতীয়ত, ৬৭২ শ্রেণির বা ধরনের পণ্যে চুক্তি কার্যকরের প্রথম দিন থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমাতে হবে। বাকি শুল্ক ৯ বছরে ধাপে ধাপে কমিয়ে দশম বছরে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।
চতুর্থত, ৪২২ শ্রেণি বা ধরনের পণ্যে বর্তমানে কাস্টমস শুল্ক শূন্য রয়েছে। এটা বহাল রাখতে হবে। এর বাইরে ৩২৬ শ্রেণির পণ্য রয়েছে, যেগুলো থেকে বাংলাদেশ ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী শুল্ক আদায় করতে পারবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য কেনার অঙ্গীকার করেছে, সেসব পণ্য অন্য উৎস থেকে কেনা হয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। বিধায় এই বাজার ধরে রাখতে তাদের বাজার থেকে কেনার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যয় হবে না। শুধু উৎসের পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি বাজার সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
