বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক রিভিউ করছে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পর আজ (৩ এপ্রিল) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক রিভিউ করছে।
আজ সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এক প্রেস বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুত শুল্কহার যুক্তিসংগত করার বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছে, যা বিষয়টি সমাধানের জন্য জরুরি।'
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, 'ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। মার্কিন সরকারের সঙ্গে আমাদের চলমান কাজ এই শুল্ক ইস্যু মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করছি।'
উল্লেখ্য, অন্যান্য দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছে, তার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে 'পারস্পরিক শুল্ক' বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প কোন দেশের ওপর কত পারস্পরিক শুল্ক [রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ] আরোপ করছেন, তার একটি তালিকা তুলে ধরেছেন।
সেখানে মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ, চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক বসানোর তথ্য উল্লেখ ছিল।
ট্রাম্পের প্রদর্শিত তালিকায় কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, সে তথ্যও রয়েছে। তালিকার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বাংলাদেশের আরোপকৃত শুল্কের হার ৭৪ শতাংশ।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেজলাইন শুল্ক বসাবেন এবং দেশটির বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করবেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের এ ধরনের বাণিজ্যনীতির ফলে চলমান বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।