ইসি গঠন সংলাপে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বিএনপির

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের উদ্যোগে আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সংলাপে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির।
বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সংলাপে যোগ দিতে আগ্রহী নয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, "ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপে আমরা অংশ নেব কি না তা আলোচনার পর ঠিক হবে।"
তিনি বলেন, "এর আগে ২০১২ এবং ২০১৭ সালেও আমরা এ ধরনের সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। সেসব সংলাপের পর সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সার্চ কমিটির সদস্যরা সরকারী দলের অনুগত থাকায় তা ফলপ্রসূ হয়নি। সার্চ কমিটিগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আমরা আশঙ্কা করছি, পরবর্তী ইসিও অতীতের পুনরাবৃত্তি করবে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। তাই এই সংলাপে অংশ নেওয়া অর্থহীন।"
"ইসি গঠনের চাইতে নিরপেক্ষ সরকার নির্বাচন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে কোনো ইসির পক্ষেই অবাধ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না," মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সংলাপ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (২০ ডিসেম্বর) থেকে। এক্ষেত্রে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী নয়টি দলকে প্রথমে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
সংলাপের প্রথম দিন সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে সংলাপে বসবেন রাষ্ট্রপতি।
জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, "রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ জানানোয় আমরা বঙ্গভবনে সংলাপে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংলাপে যোগ দেওয়ার আগে কৌশল নির্ধারণে রোববার এক বৈঠকে বসব আমরা।"
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই রাষ্ট্রপতিকে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
ইসিতে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩১টির সঙ্গে রাষ্ট্রপতি সংলাপে বসবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন বলেন, "স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সংলাপ শেষ করতে রাষ্ট্রপতি একদিনে একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসবেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গেও রাষ্ট্রপতি সংলাপে বসবেন।"
গত দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি 'সার্চ কমিটির' সুপারিশের ভিত্তিতে ইসি গঠন করেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি একজন সিইসি এবং চারজনের অধিক কমিশনার নিয়োগ করতে পারেন।
সংবিধান মতে, ইসি গঠনের জন্যও আইন প্রণয়নের কথা রয়েছে। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও সে আইন এখনো হয়নি।