২০২২ সালে দেশে রান্নার জন্য পরিষ্কার জ্বালানির সহজলভ্যতা নেমে এসেছে ২৮% এ: বিবিএস
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে রান্নার জন্য পরিচ্ছন্ন শক্তির সহজলভ্যতা ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে; যা এর আগের বছর ছিল ২৯.৩%। অথচ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫% সহজলভ্যতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) ঢাকায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে 'বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস ২০২২' শিরোনামের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৬.৩% এ; যা ২০২১ সালে আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৯.৩ শতাংশে। কিন্তু গত বছর তা কমে ২৮% এ নেমে এসেছে।
এর আগে ২০২১ সালের জ্বালানি অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রান্নার জন্য পরিষ্কার জ্বালানির সহজলভ্যতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে আছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ১২৯.৩৩ মিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ জনসংখ্যার মোট ৭৭% এর বাড়িতে রান্নার জন্য পরিষ্কার জ্বালানি এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ছিল না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৯২% গ্রামীণ পরিবার রান্না এবং গরম করার জন্য কাঠ, কয়লা, গবাদি পশুর গোবরের মতো জ্বালানির উপর নির্ভর করে। মূলত স্বল্প বা বিনা খরচের হওয়ায় জ্বালানির এসব উৎস মূলত দরিদ্ররাই ব্যবহার করে থাকেন।
তবে, এ ধরনের দূষিত জ্বালানির ব্যবহার গৃহস্থালির বায়ু দূষণে ভূমিকা রাখে; এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং এমনকি অকাল মৃত্যুও ঘটতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার ৬৬% এর রান্নার জন্য পরিষ্কার জ্বালানি ও প্রযুক্তির অ্যাক্সেস রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), প্রাকৃতিক গ্যাস, বায়োগ্যাস, সৌর শক্তি এবং অ্যালকোহল-ফুয়েল চুলা।
দক্ষিণ এশীয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপ রান্নার জন্য পরিষ্কার জ্বালানির সহজলভ্যতার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যার ৯৯% রান্নার জন্য পরিষ্কার জ্বালানি পায়। তালিকায় এরপরই আছে ভুটান (৭৯%), ভারত (৬৪%) এবং পাকিস্তান (৪৯%)।
বাংলাদেশ কেবল এই দেশগুলো থেকে নয় বরং আফগানিস্তান থেকেও পিছিয়ে আছে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির জনসংখ্যার ৩৬% এর পরিষ্কার রান্নার সহজলভ্যতা রয়েছে। এদিকে, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা দুই দেশেরই জনসংখ্যার ৩১% এর রান্নার জন্য পরিষ্কার জ্বালানি রয়েছে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ডেনমার্কের মতো উন্নত দেশগুলোতে রান্নার জন্য পরিষ্কার জ্বালানি এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতা উপভোগ করে দেশের শতভাগ লোক।
প্রেস ব্রিফিং চলাকালীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মারিয়া নেইরা মানব স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য পরিষ্কার এবং টেকসই শক্তি বৃদ্ধির গুরুত্বের উপর জোর দেন, বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায়। ডা. নেরা প্রান্তিক গোষ্ঠীর দুর্বলতার দিকগুলোও তুলে ধরেন।
বিবিএস এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন।
