ঢাকায় বসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেত: মেয়র তাপস
ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করতে দক্ষিণ সিটির ৫৩টি সিগন্যালে অবকাঠামো নির্মাণ হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
মেয়র তাপস বলেন, 'হাত তোলা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হলেও ঢাকা মেগাসিটি কখনই সঠিক দিশা খুঁজে পায়নি। কিন্তু সে করালগ্রাস আমরা ভেঙে দিতে চাই। ৫৩টি চৌরাস্তায় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেত স্থাপনের লক্ষ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে।'
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে 'উন্নত ঢাকার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ৩ বছর' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এসব কথা বলেন।
এসময় মেয়র বলেন, 'নগরীর উপর হতে আন্তঃজেলা বাসের চাপ কমাতে আমরা ঢাকা থেকে বাস প্রান্ত সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তারই অংশ হিসেবে কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাসপ্রান্ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জের বাঘাইরে নতুন আরেকটি আন্তঃজেলা বাসপ্রান্ত প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।'
সংবাদ সম্মেলনে গত তিন বছরে নেওয়া নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
তিনি বলেন, ফুটপাতে হকার নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিএসসিসির সড়ক, পথচারীদের চলাচলের পথকে লাল, সবুজ ও হলুদ চিহ্নিত করা হয়েছে।
মেয়র জানান, লাল চিহ্নিত এলাকায় কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। সবুজ চিহ্নিত এলাকায় নির্দ্বিধায় ২৪ ঘণ্টা এবং হলুদ চিহ্নিত এলাকায় হকাররা সুনির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, 'সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যেত আমাদের প্রিয় এই শহর। জলনিমগ্ন হয়ে পড়তো নগরীর প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা। কিন্তু দায়িত্বভার গ্রহণের পর জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করি। জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজস্ব অর্থায়নে ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিগত ৩ বছরে আমরা ১৩৬টি স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন করি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে ঢাকা শহর এখন আর ডুবে যায় না।'
মেয়র বলেন, 'বিগত ৩ বছরে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সামগ্রিক কার্যক্রমের ফলে বিগত ৩ বছর সময়ে সড়ক ও হাঁটার পথে পড়ে থাকা ১০০ শতাংশ উন্মুক্ত বর্জ্য ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ বর্জ্য সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিগত ৩ বছরে ৩৬টি ওয়ার্ডে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণের ফলে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮-তে উন্নীত হয়েছে। অথচ আমার দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল মাত্র ২২। এছাড়া বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণের সুবিশাল কর্মযজ্ঞ চলমান রয়েছে।'
তিনি বলেন, গত তিন বছরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে সক্ষম হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি।
মেয়র তাপস বলেন, 'আগে মশক নিধন কার্যক্রম ৫৭টি ওয়ার্ডে সীমাবদ্ধ ছিল, প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে চারজন কর্মী নিয়োগ করা হতো আর মাত্র একজন সুপারভাইজার ৪-৫টি ওয়ার্ডের তদারকি করতেন। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৩ জন করে কর্মী এবং একজন সুপারভাইজার নিয়োগ দিয়ে এ কর্মসূচি জোরদার করেছি।'
ঢাকা দক্ষিণ সিটি দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান
মেয়র তাপস বলেন, 'বাংলাদেশের সব সরকারি সংস্থা, সরকারি অধিদপ্তর যা আছে, তার মধ্যে একমাত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান।'
'আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি দাঁড় করানো। এই তিন বছরে আজকে বলতে পারি, একমাত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান', যোগ করেন তিনি।
মেয়র তাপস বলেন, 'প্রয়োজনীয় জনবল ঘাটতির প্রকটতা কমাতে ভারী গাড়ির ১০৯ জন চালকসহ ৫ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে, নাগরিক সেবা প্রদান ও করপোরেশনের নৈমিত্তিক কাজে যেমন গতি এসেছে তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে তদারকি ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের হার।'
তাপস বলেন, 'আমরা যেমন দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়া ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটসহ অনেকগুলো মার্কেটের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করেছি, তেমনি দখলমুক্ত করা হয়েছে বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল ঘিরে গড়ে ওঠা কয়েক ডজন অবৈধ বহুতল ভবন ও স্থাপনা।'
মেয়র বলেন, 'মেয়র নির্বাচনের প্রাক্কালে আমি ঢাকাবাসীর ওপর কোনও করের বোঝা না চাপিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিগত ৩ বছরে আমরা কোনো খাতে কোনো কর বৃদ্ধি করিনি। বরং এ সময়ে ২৫টি নতুন খাত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ১৪টি নতুন খাত হতে আমরা রাজস্ব আদায় শুরু করেছি। ফলে করোনা মহামারীর মতো বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও রাজস্ব আদায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে, যা অদ্যাবধি অগ্রসরমান।'
