২৬ শর্তে বিএনপিকে গোলাপবাগে সমাবেশ করার অনুমতি
নানা নাটকীয়তা, সংঘর্ষের পর অবশেষে ঢাকায় বিভাগীয় সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। শুরু থেকে বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ব্যাপারে অনড় থাকলেও শেষপর্যন্ত গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মোট ২৬টি শর্তে আগামীকাল রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাছে গোলাপবাগ মাঠে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে অনুমোদন ও শর্তগুলোর বিষয়ে জানানো হয়েছে।
যেসব শর্তে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে
১. এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়, স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
২. স্থান ব্যবহারের অনুমতিপত্রে উল্লিখিত শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
৩. গোলাপবাগ মাঠের অভ্যন্তরে সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৪. নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে।
৫. স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশস্থলের অভ্যন্তরে ও বাইরে উন্নত রেজ্যুলেশনযুক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
৬. নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশগেটে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে এবং সমাবেশস্থলে আগতদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে (ভদ্রোচিত) চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভেহিকেল স্ক্যানার/ সার্চ মিররের মাধ্যমে সমাবেশস্থলে আগত সব যানবাহন তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নিজস্ব ব্যবস্থাপনার সমাবেশস্থলে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৯. গোলাপবাগ মাঠের বাইরে বা সড়কের পাশে মাইক/সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা যাবে না।
১০. গোলাপবাগ মাঠের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেক্টর স্থাপন করা যাবে না।
১১. গোলাপবাগ মাঠের বাইরে, রাস্তায় বা ফুটপাতে কোথাও লোক সমাবেত হওয়া যাবে না।
১২. আজান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক/শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
১৩. ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত আসতে পারে, এমন কোনো বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন বা বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না।
১৪.অনুমোদিত সময়ের মধ্যে সমাবেশের সার্বিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
১৫. সমাবেশ শুরুর দুই ঘণ্টা আগে লোকজন সমাবেত হওয়ার জন্য আসতে পারবে।
১৬. সমাবেশস্থলের আশপাশসহ রাস্তায় কোনো অবস্থাতেই সমবেত হওয়াসহ যান ও জন চলাচলে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
১৭. পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন বহনের আড়ালে কোনো ধরনের লাঠিসোটা, রড ব্যবহার করা যাবে না।
১৮. আইন-শৃঙ্খলাপরিপন্থি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন কার্যকলাপ করা যাবে না।
১৯. রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যকলাপ ও বক্তব্য প্রদান করা যাবে না।
২০. উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য প্রদান বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।
২১. জনদুর্ভোগ তৈরি করে মিছিল-সহকারে সমাবেশস্থলে আসা যাবে না।
২২. পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং করতে হবে। মূল সড়কে কোনো গাড়ি পার্কিং করা যাবে না।
২৩. সমাবেশস্থলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হলে আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
২৪. স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক সমাবেশ পরিচালনা করতে হবে।
২৫. উল্লিখিত শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এই অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
২৬. জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে এই অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
ঢাকায় বিএনপির সমাবেশস্থল নিয়ে কদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। এর মাঝেই বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত অর্ধশত আহত হন।
এরপর গত রাতে নয়াপল্টনের সংঘর্ষের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বিএনপির দুই সিনিয়র নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসকে নিজ নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পরে বুধবার নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৮৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে দলটির আড়াই হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে পুলিশ।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সাদাপোশাকে পুলিশ মির্জা ফখরুলকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উত্তরার বাসা থেকে এবং মির্জা আব্বাসকে দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে তার শাহজাহানপুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়।
সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বিএনপির ৪৭০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন ও মতিঝিল থানায় দুটি মামলা হয়েছে।
মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামানসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
এ ঘটনার পর নয়াপল্টন এলাকা থেকে বিএনপি নেতা রিজভী, এ্যানি, শিমুল বিশ্বাস, আমানউল্লাহসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পাশাপাশি ৭২০ বিএনপি কর্মী এবং বেনামী ২,৪০০ জনের বিরুদ্ধে রমনা, শাহজাহানপুর, মতিঝিল ও পল্টন থানায় চারটি মামলা করে।
এখন পর্যন্ত ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
