গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিন মাসের কর্মসূচি ঘোষণা খেলাফত মজলিসের
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এর অংশ হিসেবে আগামী ৫ আগস্ট ঢাকায় একটি গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে মে, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে জেলা পর্যায়ে নাগরিক সমাবেশ করবে দলটি।
মামুনুল হক এর সভাপতিত্বে শুক্রবারের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সভায় মামুনুল হক বলেন, "জুলাইয়ের অঙ্গীকার ছিল—আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ১৯৪৭ সাল, ২০১৩ সাল এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের ভিত্তির ওপর। আজ যারা মনে করেন, কেন বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও ইসলামপন্থীরা জুলাই বিপ্লবের পক্ষে কাফনের কাপড় বেঁধে রাজপথে নামতে চায়—আমি তাদের বলতে চাই, আমরা জুলাই বিপ্লবকে এজন্যই বাস্তবায়ন করতে চাই। কারণ, এই জুলাই বিপ্লব ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের চেতনাকে ধারণ করে, ১৯২১ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে, ১৯৪৭ সালের স্বাধীন জাতিসত্তাকে ধারণ করে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে, ২০১৩ সালের শাপলার চেতনাকে ধারণ করে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ধারণ করে।"
তিনি বলেন, "যারা ইসলামকে ভালোবাসে, বাংলাদেশকে ভালোবাসে এবং বাংলাদেশের শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে—তারা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে থাকতে পারে না। আমি আজকের ক্ষমতাসীন বিএনপিকে বলতে চাই, আপনারা বাংলাদেশের ৫০ বছরের রাজনীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না।"
সভায় জামাতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আজকে যে মঞ্চে আমরা দাঁড়িয়েছি, এই মঞ্চের সাথে দুটি জিনিস কখনো যাবে না—একটি হলো আধিপত্যবাদ এবং আরেকটি হলো ফ্যাসিবাদ।"
"এই দুইটিকে এই মঞ্চ কখনোই গ্রহণ করবে না, বরদাশতও করবে না। এই মঞ্চে যারা বসে আছেন, তারা জাতির স্বার্থে, দেশপ্রেম ধারণ করার কারণে জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন—আমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। আফসোস, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পর যারা একসময় মজলুম ছিলেন, রাজপথে আন্দোলন করেছেন, সংগ্রাম করেছেন—তাদেরই একটি অংশ আজ সরকারে গিয়ে অতীতের সব কিছু ভুলে গেছেন," বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি আরো বলেন, "ফ্যাসিবাদীরা বিভিন্ন নেতিবাচক বয়ান তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল। নির্বাচনের আগে বলেছিলেন—আমরা নির্বাচিত সরকার গঠন করলে সবাইকে নিয়ে দেশ চালাবো। এখন আপনারা কী করছেন? একজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন পাকিস্তানে, আরেকজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন অন্য দেশে—আর আপনারা এ দেশে রাজত্ব করবেন!"
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা দেখে এসেছি ঐকমত্য কমিশন থেকে সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে সর্বদাই কণ্ঠস্বর হিসেবে সবার আগে এসেছেন আল্লামা মামুনুল হক। ষড়যন্ত্র করে তাকে সংসদে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে, কিন্তু রাজপথে তাকে থামানো সম্ভব নয়।"
তিনি বলেন, "আমরা সংসদে আছি, রাজপথে আছেন আল্লামা মামুনুল হক ও নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীরা। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে সংসদ ও রাজপথ একাকার হয়ে যাবে। আমরা এখন একটু অল্প করে কথা বলছি, কারণ দেশে অনেক সংকট। দেশের মানুষ ভালো নেই। দেশে জ্বালানি সংকট, মানুষের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দল থেকে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়া হয়েছে—সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রাজনীতি করতে চাইনি, কিন্তু সরকার বারবার কথার বরখেলাপ করছে।"
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, "আমরা কেন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আপনাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় ডেকে সমগ্র জাতিকে জানাতে চাই—এই সরকার যে কথা দিয়েছিল, সেই কথা তারা মানেনি। ইতোমধ্যে তারা প্রমাণ করেছে যে, প্রত্যেকটি জেলায় জেলা পরিষদে প্রশাসনিক ব্যবস্থা করেছে এবং তাদের দলীয় লোকজনকে দিয়ে পরিচালনা করছে, যা এক ধরনের বাকশালের নমুনা। আমরা কী চেয়েছি? আমরা তো কোনো গাড়ি চাইনি, বাড়ি চাইনি, আশা চাইনি, ব্যাংকের মালিক হতে চাইনি। আমরা চেয়েছি—যারা বিচারপতি হবেন, তারা একটি পরীক্ষার মাধ্যমে বিচারপতি হবেন; তারা কোনো দলীয় ব্যক্তির দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।"
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ময়মনসিংহ-২ এর সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ, মাদারিপুর-১ এর সংসদ সদস্য মাওলানা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, ডাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েম, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান ও বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
