আ.লীগ আমলের গুম-খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকায় কাল ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আগামীকাল (২৩ জুন) রাজধানীতে সমাবেশ করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয়নগরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া আগামী ৪ জুলাই সারা দেশের সব জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে ১১ দল।
আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ দেশবাসীকে ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'আগামীকাল (২৩ জুন) বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন। ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত পরাজয় শুধু একটি যুদ্ধের পরাজয় ছিল না; এটি ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার এক করুণ অধ্যায়। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জাতীয় স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা এবং জনগণের অসচেতনতা একটি জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'আজকের বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে আমরা উদ্বেগজনক কিছু মিল দেখতে পাই। গত ১৭ বছরে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও আমরা লক্ষ্য করছি, নতুন করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে।'
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সীমান্তে হত্যা, অপহরণ, কৃষকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। সীমান্তে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা মনে করি, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ দীর্ঘদিন কর্তৃত্ববাদী শাসনের শিকার হয়েছে। ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা ট্র্যাজেডি, বিরোধী মতের মানুষের গুম, খুন ও নির্যাতন, আলেম-উলামা ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট গণহত্যাসহ অসংখ্য ঘটনার বিচার আজও জাতি প্রত্যাশিতভাবে পায়নি। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শত শত মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন।'
তিনি যোগ করেন, 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে বিচার কার্যক্রমের গতি শিথিল করে দেয়। ফলে গণহত্যার বিচার এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'এই প্রেক্ষাপটে গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠক এবং আজকের জরুরি সভায় আমরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। বৈঠকে গণহত্যার বিচারের দাবিকে আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।'
এসময় দেশে গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবি, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বন্ধ, পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত কর্মসূচি
১. আগামীকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশ।
২. আগামী ৪ জুলাই দেশব্যাপী সকল জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে।
ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের অধিকার আদায় এবং সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি'র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জনাব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির দপ্তর সম্পাদক জনাব মিরাজ খান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির
নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
