জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বার্থের প্রশ্নে আপস করা হবে না: শফিকুর রহমান
জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, 'সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করব, তবে জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। প্রয়োজনে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।'
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-এর মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সব গণহত্যার বিচারের দাবিতে এ সেমিনার হয়। এতে সভাপতিত্বে করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
শফিকুর রহমান বলেন, 'সংস্কারের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। দেশের রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া হবে না এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে।'
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক বলেন, 'বিএনপি জুলাইয়ের আন্দোলন ও জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক ধারার বাইরে ঠেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।'
তিনি বলেন, 'জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বরং সুপরিকল্পিতভাবে সেই চেতনাকে দুর্বল করার নানা প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।'
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মামুনুল হক বলেন, 'যদি জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে জনগণের এই ইস্পাত-কঠিন ক্ষোভ একসময় বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে।'
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'গণভোটের গণরায় অবশ্যই মানতে হবে। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা উপেক্ষা করার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার কারও নেই। সরকার বা বিএনপি যত যুক্তিই দেখাক না কেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না।'
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, 'বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করে জনগণকে আশ্বস্ত করেছিল যে তারা শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থারও মৌলিক সংস্কার চায়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বসার পর থেকেই রাষ্ট্রের কাক্সিক্ষত সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ধীরে ধীরে আপত্তি জানাতে শুরু করে।'
তিনি আরও বলেন, 'মুখে তারা সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিরোধিতা করেছে।'
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অলি আহমদ বলেন, 'চারদিকে শত্রু পরিবেষ্টিত অবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আমরা প্রকাশ্যেই আপনার সমালোচনা করি। কিন্তু আপনার আশপাশে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা প্রকাশ্যে নয়, গোপনে আপনার এবং দেশের ক্ষতি করছেন।'
তিনি বলেন, 'তাদের কেউ কেউ বিদেশি অর্থ ও পরামর্শে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে যারা বিদেশি স্বার্থে কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আপনার প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত। এতে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, দেশও তেমনি লাভবান হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আপনাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছি। আপনার নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।'
