‘রোহিঙ্গা তরুণী’ খুশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শরণার্থী পরিবারে বেড়ে ওঠা ‘রোহিঙ্গা-কন্যা’ রহিমা আক্তার খুশিকে নিয়ে গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (সিবিআইউ) থেকে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল এ সিদ্ধান্ত নেয়।
কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আশ্রয় শিবিরে এই তরুণী ৩৪ হাজার রোহিঙ্গার সঙ্গে বৈধ শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। ১৯৯২ সালে তার বাবা-মা পুরো পরিবার নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খুশিকে নিয়ে দেড় মিনিটের একটি ভিডিও প্রচার হলে তিনি আলোচনায় আসেন। জার্মানির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের তৈরি ভিডিওটিতে দেখা যায়, এই রোহিঙ্গা তরুণী উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে একটি এনজিওর কর্মী হিসেবে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন।
ভিডিওটিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯২ সালে খুশির পরিবার একইভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সন্তানরা বৈধভাবে বাংলাদেশের কোনো স্কুলে পড়তে পারে না। তাই খুশির পরিবার তাদের রোহিঙ্গা পরিচয় লুকিয়ে কক্সবাজারের একটি স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন তাদের সন্তানকে। কক্সবাজার শহরের বৈল্যাপাড়ার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি নামের ওই প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করেন খুশি।
পরে তিনি কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি থেকে এসএসসি ও কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি লায়ন মুজিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই আইন অনুষদে পড়াশুনা করছেন এখন খুশি। কক্সবাজারের স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুশির জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সেসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় খুশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর যাচাই-বাছাই চলে। একাডেমিক কাউন্সল তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে প্রতিষ্ঠানে খুশির ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবুল কাসেম এ প্রসঙ্গে বললেন, মিডিয়া রিপোর্টের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খুশিকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোকে তার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
