হালদায় পরীক্ষামূলকভাবে ডিম ছেড়েছে মা মাছের ঝাঁক
দক্ষিণ এশিয়ায় মিঠা পানির মাছের অন্যতম জন্মস্থল বলে পরিচিত হালদা নদীতে পরীক্ষামূলকভাবে ডিম ছাড়া শুরু করেছে দেশীয় নানা প্রজাতির মা মাছ । আজ শুক্রবার দিনের প্রথমভাগ থেকে মা মাছের দল পূর্ণাঙ্গভাবে ডিম ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে প্রাথমিক ডিম ছাড়ে।
এব্যাপারে চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আজ বেলা সাড়ে ১২টা থেকে হালদা নদীর কাগাতিয়া পয়েন্ট থেকে গার্দুইয়ারা নয়াহাট পয়েন্ট পর্যন্ত- জেলেরা একশ থেকে দেড়শ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের উর্বর ডিম সংগ্রহ শুরু করেছেন।
'রুই, কাতলা, মৃগেল এবং কালাবাউসের মতো নানা স্থানীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা মাছ আজ বেলা ১২টা থেকে হালদায় পরীক্ষামূলকভাবে ডিম ছাড়া শুরু করে। ছোট ছোট নৌকায় করে এসব নমুনা ডিম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কয়েকশ জেলে' যোগ করেন ইউএনও।
কামাল সওদাগর নামের এক জেলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, আমাদের কাছে ছয়টি নৌকা আছে। চারটি নৌকা করে আমরা ডিম সংগ্রহ করছি। প্রতিটি নৌকায় দুইশ থেকে আড়াইশ গ্রাম পর্যন্ত ডিম সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। তবে এগুলো সবই পরীক্ষামূলক ডিম।
মৎস বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জেলেরা জানান, মা মাছ নদীর পরিবেশ উপযুক্ত কিনা তা জানতে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ডিম ছাড়ে। এর মাধ্যমে তারা নদীর পানির উষ্ণতা, বাতাসের আদ্রতা ইত্যাদি ডিম নিষিক্ত করে পোণা মাছ জন্মদানে উপযুক্ত কিনা তা পরীক্ষা করে দেখে। এরপর তারা পূর্ণদ্যমে ডিম ছাড়া শুরু করে।
হালদা নদীরক্ষা কমিটির সভাপতি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কবির বলেন, মা মাছ জলজ পরিবেশ অনুকূলে আছে কিনা তা জানতে নমুনা আকারে কিছু ডিম ছাড়া শুরু করেছে। এটা একটা ইতিবাচক লক্ষ্মণ। নমুনা ডিম ছাড়ার পরেই মা মাছ সকল ডিম ছাড়া শুরু করে।
প্রতিবছর বৈশাখ এবং জ্যৈষ্ঠ মাসে (এপ্রিল ও মে) দেশীয় কার্প প্রজাতির নানা মাছ যেমন, কাতলা, রুই, মৃগেল, কালাবাউস প্রভৃতি কর্নফুলী, মাতামুহুরী এবং সাঙ্গু'র মতো স্থানীয় নদী থেকে হালদায় ডিম ছাড়ার জন্য আসে।
তবে এই অভিবাসন প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে নানাবিধ মানুষ সৃষ্ট কারণে। শিল্পবর্জ্যজনিত নদীদূষণ, মা মাছ শিকার, মোহনায় নদী থেকে বালু উত্তোলন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে হালদার প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান। ২০১৭ সালের পর থেকেই এসব কারণে মাছের ডিম দেওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
তবে এরপর থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থানীয় উপজেলা অফিস হালদায় মা মাছ শিকার বন্ধ করে, নদীকে আগের প্রাকৃতিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে।
এর আগে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের মৌসুমে যথাক্রমে; ১৬৮০ এবং ২২ হাজার ৬৯০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। গতবছর এর পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৯৮৭ কেজি।
চলমান লকডাউনের কারণে নদীদূষণ এবং অন্যান্য মনুষ্য সৃষ্ট প্রভাব কমায় চলতি বছর বিপুল পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করার আশা করছেন স্থানীয় জেলেরা।
