সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে বাম দল ও সাহিত্যিকদের বিক্ষোভ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সনাতন ধর্মালম্বীদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনায় নাগরিক বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে বাম দলগুলো।
আজ বুধবার (২০ অক্টোবর) বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ, বাসদ( মার্কসবাদী), ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণসংহতি আন্দোলন ও বামঘরানার লেখক -সাহিত্যিকদের নেতৃত্বে শাহবাগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৮ দাবি তুলে ধরেছেন।
দাবিগুলো হলো; সহিংসতার সাথে জড়িত ও তাদের মদদদাতাদের গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে, অব্যাহত এই হামলার দায় আওয়ামী লীগ সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে নিতে হবে, সভা-সমাবেশ এবং ইউটিউব-ফেসবুকে বিদ্বেষ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, বহুধারার শিক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে মাতৃভাষায় এক ধারার বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে, দেশের পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণ রহিত করতে হবে, রামু, নাসিরনগর, সাতক্ষীরা, অভয়নগর, শাল্লাসহ পূর্বের সব সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার করতে হবে, সব দল ধর্মকে রাজনীতি ও ক্ষমতার হাতিয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে ও সংবিধান সংশোধন করে "রাষ্ট্রধর্ম" বাতিল করে 'ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃস্থাপন করতে হবে, একইসঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সমাজ আর আগের মতো নেই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টি এদেশের শাসক শ্রেণি, তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সাথে বিশাস্বঘাতকতা করেছেন।'
আজকে সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক, শিল্পীকে এসব শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে লড়াই করে, এই রাষ্ট্রকে পুননির্মাণ করতে হবে- বলে জানান এমএম আকাশ।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, 'আমি প্রথমে করজোর করে আগে হিন্দুদের কাছে ক্ষমা চাই, কারণ আমরা আপনাদের নিরাপত্তা দিতে পারিনি। এই সাম্প্রদায়িক হামলা শুধু হিন্দুদের উপর নয়, বরং গোটা জাতির উপর হামলা।'
তিনি আরও বলেন, এসব সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে অব্যাহত লড়াই করতে হবে, সমাজের লুটেরা ও ধনিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আমাদের রুটি-রুজি ও ভাত-কাপড়ের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
