মামুনুলের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে হেফাজতে ইসলাম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে শনিবার হেফাজতের নেতা মাওলানা মামুনুল হক 'হত্যাচেষ্টা'র প্রতিবাদে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।
রোববার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব অভিযোগ করা হয়।
হেফাজতের ইসলামের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন রাজি বলেন, 'দুই বছর আগে শরিয়তসম্মত এবং পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন মাওলানা মামুনুল হক। কিন্তু গতকাল তার উপর পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছে। এখনো তার স্ত্রীর চরিত্র হনন করা হচ্ছে, যা একজন সতী নারীর অধিকার হরণ করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সরকার মুখে মুখে নারীর অধিকারের কথা বলে, অথচ জাতীয় সংসদের জায়গায়ও একজন সতী নারীর চরিত্র হনন করছে। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং এ সমস্ত বাজে মন্তব্যের জন্য তাওবা করার আহ্বান জানাই।'
মাওলানা রাজি আরও বলেন, 'মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মিথ্যা, তা সত্য নয়। ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা আশা করব তিনি তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।'
মামুনুলের নামে যে সমস্ত অডিও ক্লিপ বের করা হয়েছে, তা অসত্য উল্লেখ করে এসব বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান রাজি।
'গতকালের ঘটনায় আজকে আমরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভ করতে পারতাম; কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটা করিনি। আমরা ইচ্ছা করলে কয়েক ঘণ্টার নোটিশে ঢাকায় ৫ লক্ষ লোকের সমাবেশ করতে পারতাম। হেফাজতে ইসলাম রাজনীতি করে না, কিন্তু গায়ে পড়ে হেফাজতে সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে গদি টিকবে না,' বলেও সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন এ নেতা।
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার এক নারীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে বেড়াতে যাওয়ার পর হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে স্থানীয়রা আটক করলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।
শনিবার বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টের ৫ম তালার ৫০১ নম্বর কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় জনতা। পরে সেখানে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
মামুনুল হকের দাবি, তার সঙ্গে থাকা নারীর নাম আমিনা তৈয়ব। তিনি মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী। আমিনাকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। দু'বছর আগে তিনি ওই নারীকে বিয়ে করেন। তবে ওই নারীর বিষয়ে এর বেশি তথ্য দিতে তিনি রাজি হননি।
পরে ওই রিসোর্টে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় মামুনুল হককে 'ছিনিয়ে' নিয়ে যান তার অনুসারীরা।
তবে পুলিশ দাবি করেছে, তারা মামুনুলকে পাহারা দেওয়ার পর হেফাজতের নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছে।
অবরুদ্ধ মামুনুলকে নিতে এসে নারায়ণগঞ্জের ওই রিসোর্টটিতে ভাঙচুরও চালাতে দেখা যায় তার সমর্থকদের।
