ভারতের পণ্য যাবে কাল, আনুষ্ঠানিকতায় থাকবেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
নির্ধারিত সময়ের একদিন পর বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আগরতলায় যাবে রড ও ডাল। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী ট্রানজিটের প্রথম চালানের এসব পণ্য বুধবার যাওয়ার কথা থাকলেও 'আনুষ্ঠানিকতার' কথা জানিয়ে একদিন পেছানো হয়েছে।
পণ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার সকালের এই আনুষ্ঠানিকতায় আখাউড়া ও আগরতলা স্থলবন্দরের শূণ্যরেখায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব উপস্থিত থাকবেন। মূলত মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই একদিন পেছানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের 'ম্যাংগু লাইন' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের ডার্সেল লজিস্টিক লিমিটেডের পাঠানো পণ্যগুলো পরিবহন করছে কাস্টমস্ ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভম্যান্ট অব গুডস্ টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া' চুক্তির আওতায় এবং ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে নিজ দেশে পণ্য পরিবহন করবে ভারত।
পরীক্ষামূলক প্রথম চালান হিসেবে ৫৩.২৫ টন রড আর ৪৯.৮৩ টন ডাল নিয়ে গত ১৪ জুলাই কোলকাতার সমুদ্র বন্দর থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় 'সেজুতি' নামের একটি জাহাজ। জাহাজটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে নোঙর করে।
এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ করে কে. জে. শিপিং। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে বুধবার ভোররাতে রড ও ডালবোঝাই চারটি ট্রেইলর আখাউড়া স্থলবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় গন্তব্যে পৌঁছায়।
ভারতীয় পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী আক্তার হোসেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, আজকে (বুধবার) পণ্যগুলো আগরতলায় পাঠানোর জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া ছিল।
''কিন্তু ভারতীয় হাইকমিশন ও কাস্টমস্ কর্র্তৃপক্ষ আমাদেরকে জানিয়েছে আজকে পণ্য গ্রহণ করা হবে না, বৃহস্পতিবার সকালে 'আনুষ্ঠানিকভাবে' গ্রহণ করা হবে। এ আনুষ্ঠানিকতায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীও উপস্থিত থাকবেন'', যোগ করেন তিনি।
এ দিকে, বাংলাদেশের ভূখ- ব্যবহার করে ভারতের পরীক্ষামূলক এই ট্রানজিট চালানের জন্য ফি নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এর মধ্যে ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি প্রতি চালান ৩০ টাকা, ট্রান্সশিপমেন্ট ফি প্রতি টন ২০ টাকা, সিকিউরিটি চার্জ প্রতি টন ১০০ টাকা, অ্যাসকর্ট চার্জ প্রতি টন ৫০ টাকা, বিবিধ প্রশাসনিক চার্জ প্রতি টন ১০০ টাকা, কন্টেইনার স্ক্যানিং ফি প্রতি কন্টেইনার ২৫৪ টাকা। এ ছাড়া ইলেকট্রিক লক অ্যান্ড সিল ফি হিসেবে বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ দিতে হবে।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের উপ-কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ''ভারতীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। পণ্য পরিবহনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে মাশুল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরেই মাশুল আদায়ের বিষয়গুলো সম্পাদিত হবে।''
