কুড়িগ্রামে বন্যাকবলিতের তুলনায় ত্রাণ বরাদ্দ অপ্রতুল

কুড়িগ্রামে বন্যাকবলিতদের তুলনায় ত্রাণ বরাদ্দ কম হওয়ায় বণ্টনে বিপাকে পড়ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ প্রদানের কথা থাকলেও জনপ্রতিনিধিরা চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাচ্ছেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামে ৫৬টি ইউনিয়নের ১৫ হাজার ৬০০ পরিবার এখন বন্যাকবলিত। তবে স্থানীয় প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, বন্যাকবলিত পরিবারের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বন্যার শুরুতেই ২০৩ টন চাল ও ৩৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ৯ উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দুই কোটি টাকা ও দুই হাজার টন চালের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। 'আমরা সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোতে বরাদ্দ পাঠাচ্ছি,' বলেন তিনি।
রোববার বিকেল ৩টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সংগৃহীত বন্যার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সদর উপজেলার ধরলা ব্রিজ পয়েন্টে ধরলার পানি ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর এবং সদর উপজেলার নুনখাওয়া পয়েন্টে দুধকুমারের পানি ২৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া চিলমারী উপজেলার চিলমারী ঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৮ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, পানি দ্রুত কমতে থাকায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ কমেনি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার বলেন, 'আমার ইউনিয়নে বন্যাকবলিত পরিবারের সংখ্যা ২১০০। কিন্তু এখন পর্যন্ত ত্রাণ পেয়েছি মাত্র ৪০০ পরিবারের।সেগুলো এরইমধ্যে বিতরণ করেছি।'
চিলমারী উপজেলার অস্টমীর চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তালেব বলেন, 'এ ইউনিয়নে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী। কিন্তু রোববার ২০০ পরিবারের জন্য চার টন চাল পেয়েছি। দুয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো বিতরণ করব। চাহিদার তুলনায় এ ত্রাণ অনেক কম।'
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, 'আমার ইউনিয়নে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী। আমি বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৩০০ পরিবারের জন্য।'
নাগেশ্বরী উপজেলার (নদীবেষ্টিত দ্বীপ ইউনিয়ন) বল্লভেরখাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে মোট সাত হাজার পরিবারের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত। মাত্র ৩৫০ পরিবারের জন্য তিনি ত্রাণ বরাদ্দ পেয়েছেন সাত টন চাল। এতে প্রত্যেক পরিবার পাবে ২০ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক কেজি চিড়া, এক কেজি লবণ ও আধা কেজি চিনি।
নাগেশ্বরীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম বলেন, 'বল্লভেরখাস ইউনিয়নসহ বন্যায় আক্রান্ত প্রতিটি ইউনিয়নে আমরা ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছি। আমি নিজেই ওই ইউনিয়নে দুদিন আগেই ৫০টি পরিবারে ত্রাণ দিয়ে এসেছি।'