করোনা সংক্রমণে বিপর্যয় শুরুর সপ্তাহে আমরা চলে এসেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনাভাইরাস সংক্রমণের সবচাইতে বিপর্যয়ের সপ্তাহে চলে এসেছি আমরা। চলমান সপ্তম সপ্তাহেই ইউরোপ-আমেরিকায় বিপর্যয় শুরু হয়েছিল বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
আজ রোববার দুপুর আড়াইটায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
এসময় তিনি আরও বলেন, 'গতকাল সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা এখনো অনেক দেশের তুলনায় ভালো আছি। যেহেতু আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এবং আমরা ভালো থাকতে চাই। আমরা আক্রান্তের সপ্তম সপ্তাহে আছি। যে সপ্তাহের ঠিক এই সময়ে আমেরিকা এবং ইউরোপের লক্ষ লক্ষ লোক আক্রান্ত হয়েছিল এবং হাজার হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল। আমরা যদি স্বাস্থ্য নির্দেশনাগুলো না মেনে চলি, আমাদের ফলাফলও ভালো হবে না।'
মন্ত্রী বলেন, ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লকডাউন সেভাবে কার্যকর হয়নি। আমরা এখনো দেখছি মানুষ বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা করছে। নতুন লোক আক্রান্ত হচ্ছেন। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেড়ে গেছে।
এছাড়াও শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় জনসমাগম ঠেকাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
করোনা যুদ্ধে মূলমন্ত্র ঘরে থাকা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'পরীক্ষা সংখা বাড়াতে হবে, ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে। একটু কষ্ট করে ঘরে থাকুন, তাহলে আমাদের জয় আসবেই। সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলো এগিয়ে এসেছে। তার মধ্যে দুটি হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। নতুন করে কয়েকটি সরকারি হাসপাতালকেও প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভাগী শহরে করোনার জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে, জেলা শহরগুলোকেও প্রস্তুত করা হচ্ছে।'
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৯১ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩১২ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ জনে। মোট সুস্থ হয়েছেন ৭৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের (এমআইএস) পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান 'করোনাভাইরাস সংক্রান্ত' অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে যুক্ত ছিলেন।
