Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Sunday
April 12, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SUNDAY, APRIL 12, 2026
কোথায় হারিয়ে গেল ফরিদপুরের খেজুর গুড়!

ফিচার

জুনায়েত রাসেল
21 January, 2024, 03:15 pm
Last modified: 07 February, 2024, 03:47 pm

Related News

  • মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে নিহতদের মরদেহ ফেরাতে সরকার সচেষ্ট: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
  • লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফরিদপুরের দিপালী
  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ৪ গ্রামের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত শতাধিক 
  • ফরিদপুরে জমি নিয়ে সালিশের মাঝে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১২
  • ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মধ্যরাতে টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

কোথায় হারিয়ে গেল ফরিদপুরের খেজুর গুড়!

খেজুর গুড়ের কথা উঠলেই দেশের যে কয়টি অঞ্চলের নাম মাথায় আসে, ফরিদপুর তার অন্যতম। পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ বেষ্টিত এ জনপদে একসময় শীত এলেই শুরু হয়ে যেত গাছিদের ব্যস্ততা। নিপুণ কৌশলে খেজুর গাছের কাণ্ড কেটে প্রস্তুত করতেন তারা। কাণ্ডে রস এলে বাঁশের নলের মাথায় বাঁধা হতো মাটির হাড়ি। সন্ধ্যায় পেতে রাখা হাঁড়ি সকালে ভরে উঠত মিষ্টি রসে। সে রস জ্বাল দিয়ে বানানো হতো গুড়। এ গুড় স্থানীয়দের পিঠা-পুলির চাহিদা তো মেটাতোই, ছড়িয়ে পড়ত সারা দেশেও। অথচ ফরিদপুরের প্রত্যন্ত অনেক গ্রামেই আজকাল খুব একটা চোখে পড়ে না খেজুর গাছ।
জুনায়েত রাসেল
21 January, 2024, 03:15 pm
Last modified: 07 February, 2024, 03:47 pm

ছবি: জুনায়েত রাসেল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুর রহমান শীতের ছুটিতে এসেছেন গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে। শীতে গ্রামে এলেই তার মনে পড়ে শৈশবে কাটানো রঙিন দিনগুলোর কথা। সে সময় শীতের সকাল মানেই ছিল মিষ্টি খেজুরের রস। অন্যদিকে বিকেলগুলো আনন্দময় হয়ে উঠত খেজুর গুড়ে তৈরি মজাদার পিঠা-পায়েসে। অথচ এখন শুধু নিজ গ্রামেই নয়, আশেপাশের অনেক গ্রামেই পাওয়া যায় না খেজুরের রস।

খেজুর গুড়ের কথা উঠলেই দেশের যে কয়টি অঞ্চলের নাম মাথায় আসে, ফরিদপুর তার অন্যতম। পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ বেষ্টিত এ জনপদে একসময় শীত এলেই শুরু হয়ে যেত গাছিদের ব্যস্ততা। নিপুণ কৌশলে খেজুর গাছের কাণ্ড কেটে প্রস্তুত করতেন তারা। কাণ্ডে রস এলে বাঁশের নলের মাথায় বাঁধা হতো মাটির হাড়ি। সন্ধ্যায় পেতে রাখা হাঁড়ি সকালে ভরে উঠত মিষ্টি রসে। সে রস জ্বাল দিয়ে বানানো হতো গুড়। এ গুড় স্থানীয়দের পিঠা-পুলির চাহিদা তো মেটাতোই, ছড়িয়ে পড়ত সারা দেশেও।

অথচ ফরিদপুরের প্রত্যন্ত অনেক গ্রামেই আজকাল খুব একটা চোখে পড়ে না খেজুর গাছ। ভোরবেলা গাছিদের রস পেড়ে আনা কিংবা কাচা রস খেতে বালক-বালিকাদের পাত্র হাতে অপেক্ষার দৃশ্যও অনেকটা ফিকে হয়ে এসেছে। যেসব গাছিদের বাড়ি একসময় ম-ম করত খেজুর গুড়ের ঘ্রাণে, সে বাড়িতে এখন অলস সময় কাটে গৃহিণীদের। তবে কি একরকম হারিয়েই গেল ফরিদপুরের এ ঐতিহ্য? নাকি এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন কোনো বাস্তবতা?

খাঁটি গুড়ের খোঁজে

ব্রজেন দাশ গুড় বিক্রি করেন আজ পঁয়তাল্লিশ বছর। ব্যবসাটি পেয়েছিলেন বাবার থেকে। সারা বছর আখের গুড় বিক্রি করলেও শীতের সময় বাহারি মান ও আকারের পাটালি গুড় সংগ্রহ করেন তিনি। এই প্রৌঢ় ব্যবসায়ীর দোকান ফরিদপুর শহরের চকবাজার মার্কেটে। তিনি ছাড়া এখানে বিক্রেতা আরও আট-নয়জন। সবার সামনেই আলাদা আলাদা ঝুড়িতে গুড়ের উঁচু ঢিবি। গুড়গুলোর রংও আলাদা। কোনোটি লালচে, কোনোটি একটু ফ্যাকাশে, কোনোটি আবার বাদামি। কেন এমন বাহারি রং? কোনগুলোই বা খাঁটি রসের গুড়? জিজ্ঞেস করাতে ব্রজেন দাস জানালেন, খাঁটি রসের গুড় এখন আর বাজারে তেমন নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিনি কিংবা আখের গুড়মিশ্রিত খেজুর গুড়ই তাদের সংগ্রহ করতে হয়। গাছিরাও নির্ভেজাল রসের গুড় তৈরিতে তেমন আগ্রহ দেখান না।

শহরের অন্য গুড় ব্যবসায়ীরাও একমত হলেন ব্রজেনের সঙ্গে। বিক্রেতা সুভাষ সাহা জানালেন, ফরিদপুরে পর্যাপ্ত গুড় তারা পান না। তাদের গুড় সংগ্রহ করতে হয় কানাইপুর, মাগুরা, যশোর, ঝিনাইদহ কিংবা রাজশাহী থেকে। এ অঞ্চলের গুড়ে এখানকার মানুষের চাহিদাই মিটছে না, এমন মত তার। গ্রাম-গঞ্জের অবস্থাও কি তা-ই?

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া বাজারে গুড়ের সরবারহ বেশ ভালো। দেখে আশা জাগে মনে। কিন্তু জিজ্ঞেস করাতে জানা গেল, ওগুলোর বেশিরভাগই যশোর ও রাজশাহীর গুড়, এবং বলা বাহুল্য, চিনিমিশ্রিত। তাহলে কি ফরিদপুর থেকে বিলুপ্তির পথে খেজুর গুড়?

ছবি: জুনায়েত রাসেল

বাজারগুলো দেখলে এমনটি মনে হলেও জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে কম হলেও উৎপাদিত হয় খাঁটি গুড়। যাদের চাহিদা থাকে বিশুদ্ধ গুড়ের, তারা সরাসরি গিয়ে এসব গ্রাম থেকেই গুড় সংগ্রহ করেন। তবে দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় দোকানিরা সেগুলো সংগ্রহ করেন না বলে অভিযোগ অনেক গাছির। অন্যদিকে দোকানিরা বলছেন, ভেজাল গুড়ের ভিড়ে ক্রেতারা বিশ্বাস করে কিনতে চান না খাঁটি গুড়।

খাঁটি গুড়ের খোঁজে ফরিদপুরের একটি গ্রামে গিয়ে দেখা মিলল গাছির। বিশটির মতো গাছ চড়ে আট-দশ হাড়ি রস নামিয়েছেন তিনি। সে রস ঘণ্টাখানেক জ্বাল দিয়ে গুড় পাওয়া গেল মাত্র দুই কেজি। খাটি গুড়ের চাহিদা এতই বেশি যে সেই গুড় সাথে সাথে বিক্রি হয়ে গেল চড়া দামে।

গাছি জানালেন, ইতোমধ্যে আগামী দশ দিনের গুড় অগ্রিম বিক্রি হয়ে হয়ে গেছে তার। বাজারে খাঁটি গুড় না পাওয়া গেলেও স্থানীয় পর্যায়ের গাছিদের সাথে যোগাযোগ করে অনেকেই নির্ভেজাল গুড় সংগ্রহ করেন। তাদের গ্রাম থেকে গুড় সংগ্রহ করে অনেকে অনলাইন ব্যবসাও করেন বলে জানালেন গাছি আব্দুল জব্বার।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রফিকুল ইসলামের কথাতেও উঠে এল এমন চিত্র। এই কৃষিবিদের মতে, জেলার এক লাখ খেজুর গাছ থেকে গাছিরা রস সংগ্রহ করছেন। বাজারগুলোতে যদিও বাইরে থেকে কমদামি ভেজাল গুড় আসছে, তবে আগ্রহীরা ঠিকই খুঁজে নিচ্ছেন ফরিদপুরের খাঁটি গুড়।

তিনি জানালেন, 'আগে তো কৃষকেরা বিচ্ছিন্ন ভাবে উৎপাদন করত। এখন একদল উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে, যারা বাণিজ্যিকভাবে, কেমিক্যাল ও ভেজালমুক্ত গুড় উৎপাদন করে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করছেন।' তবে খেজুর গুড়ের উৎপাদন যে আগের থেকে কমেছে, এটা অস্বীকার করছেন না এই কর্মকর্তা।

চাহিদা বেশি কমদামি গুড়ের

কাউলীবেড়া বাজারে গুড় বিক্রেতা ইব্রাহিম হাওলাদার গাছিদের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করেছিলেন দশ কেজি খাঁটি গুড়। কিন্তু এখনও বিক্রি করতে পারেননি তা। জানালেন, ক্রেতারা এসে সস্তা গুড়েরই খোঁজ করে। তাই দাম দিয়ে খাঁটি গুড় এনেও হয় না লাভ কোনো।

একই সমস্যা গাছি শাহিন মাতুব্বরের। বললেন, 'ভালো মিডাই বাজারে নিলে কেউ কিনে না, কয় চিনি দিছে। আর ওই দূরদূরান্ত থেইকা পচা মিডাই আনে, দেড়শো টাহায় কিনে। আমরা ভালো মিডাই নিলে কয় চিনি দিছো। আস্তে উইঠা চইলা যায়। তাইলে খাঁটি মিডাই বানাইয়া লাভ আছে কোনো?'

শাহিনের কণ্ঠে ঝরল আক্ষেপ। বললেন, 'দেড়শো টাকা যারা বেচে, ওরা কিন্যা আনে একশো টাহা কইরা। আমরা সারাদিন ভইরা গাছ কাডি, আমি কালকে একুশটা গাছ কাটছি, রস পাইছি তিন হাড়ি। মিডাই হবে বড়জোর এক কেজি। আমার একটা কিষ্যাণের (কৃষাণ) দামই তো হয় না। আপনের কাকি জ্বাল দিছে, তারপর খড়ি (জ্বালানি) গেছে। আমার এক কেজি মিডাইর দাম হয় আটশো; পাঁচশো চাইলেই তো কেউ নেয় না।

ছবি: জুনায়েত রাসেল

উপজেলার বালিয়াহাটি বাজারের বিক্রেতা জমির মুন্সির মতে, যশোর, রাজশাহী থেকে আসা গুড় তৈরি হয় কারখানায়। তাই সেগুলোর দাম যেমন কম, অন্যদিকে লাভও বেশি। ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকায় তারা সে গুড়ই বিক্রি করেন। জানালেন, ফরিদপুরের বাইরে থেকে আসা গুড়গুলোর বেশ কয়েকটি ধরনের হয়ে থাকে। চিনিমিশ্রিত গুড়ের দাম শুরু হয় ১৫০ টাকা থেকে। গুড়ের রং ভালো হলে আকৃষ্ট হয় ক্রেতা, তখন এ গুড়ের দামই ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছায়। রাজশাহী থেকে আসা আখের গুড়মিশ্রিত খেজুর গুড় ফরিদপুরের এসব আঞ্চলিক বাজারে পাওয়া যায় ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। তবে গাছিদের ঘরে তৈরি ফরিদপুরের খাঁটি গুড় কিনতে খরচ করতে হয় ৫০০ টাকা।

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মাতুব্বর করিম জানালেন, গ্রামাঞ্চলে খাঁটি গুড় যদিও কিঞ্চিৎ পাওয়া যায়, নিম্ন আয়ের মানুষেরা এত দাম দিয়ে কিনতে পারে না। 'একজন দিনমজুর যদি সারাদিনের আয়ের টাকায় এক কেজি মিঠাই কেনে, বাকি জিনিসপত্র কীভাবে কিনবে? তাই বাইরে থেকে আসা কমদামি গুড়েই মানুষের ভরসা।'

ঢাকাতেও দুষ্প্রাপ্য খাঁটি গুড়

ঢাকার কারওয়ান বাজারে অন্য অনেক জিনিসের মতোই প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয় বিভিন্ন ধরনের গুড়। এখান থেকেই ঢাকার অন্যান্য বাজারগুলোতে গুড় যায়। কিন্তু কারওয়ান বাজারে অনেক খুঁজেও পাওয়া গেল না খাঁটি গুড়।

বিক্রেতারা বলছেন, খাঁটি বলে কোনো গুড় হয় না। দোকানদার মোহাম্মদ হানিফের মতে, চিনি ছাড়া গুড় শক্ত হয়। বললেন, 'খাঁটি গুড় ঢাকার কোথাও পাবেন না। চিনি থাকবেই। চিনি না দিলে গুড় জমে না।'

ছবি: জুনায়েত রাসেল

কারওয়ান বাজারে দীর্ঘদিন ব্যবসা করছেন নূর মোহাম্মাদ। পাটালি ও ঝোলা দুই ধরনের গুড় বিক্রি করেন তিনি। জানালেন, অসংখ্য দোকানের মধ্যে একমাত্র তার কাছেই ফরিদপুর-মাদারিপুরের বিশুদ্ধ পাটালি গুড় পাওয়া যায়। তবে দাম অনেক বেশি।

নূর বললেন, 'সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের গুড়ই রাখতে হয়। ফরিদপুর থেকে যেটা আসে, ১,২০০ টাকা কেজি, সবাই তো কিনে না। মার্কেটে রাজশাহী, যশোরের কমদামি গুড়ই বেশি বিক্রি হয়।'

কারওয়ান বাজারে সবচেয়ে নিম্নমানের গুড় বিক্রি হয় ১৫০ টাকা দরে। এরচেয়ে ভালো মানের গুড়ের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। হাতিরপুল ও পলাশী মার্কেট ঢাকার বড় দুটি বাজারে একই অবস্থা। কমদামি গুড়েই যেন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ভরসা। আর তাই খাঁটি গুড় সংগ্রহ করতে হলে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের শরণাপন্ন হতে হয় ঢাকাবাসীদের।

যেভাবে বিলুপ্তির পথে ফরিদপুরের এ ঐতিহ্য

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার একটি এলাকার নাম হঠাৎ করেই উঠে এল গণমাধ্যমে। জানা গেল, কর্কটক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার ছেদবিন্দু পড়েছে উপজেলার ভাঙ্গাদিয়া গ্রামে। এমন ভৌগোলিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হওয়ায় সরকার এ স্থানে একটি মানমন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করল। সে কাজের প্রস্তুতি হিসেবে জমি অধিগ্রহণের সময় এখানে কাটা পড়ল শত শত খেজুর গাছ।

এ তো গেল উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য খেজুর গাছ কাটা। এর বাইরেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতি বছর শত শত গাছ কাটার ফলে ফরিদপুরের অনেক এলাকাই এখন খেজুর গাছশূন্য। খেজুর রস ও গুড় হারিয়ে যাওয়ার পেছনে মূলত খেজুর গাছের বিলুপ্তিকেই দায়ি করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকে বলছেন, গাছিদের অভাবও আরেকটি বড় কারণ।

ছবি: জুনায়েত রাসেল

খেজুর গাছের কাণ্ড কেটে রস দেওয়ার উপযোগী পর্যায়ে নিয়ে আসা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। ভাঙ্গাদিয়া গ্রামের গাছি মোহাম্মদ শাহিন মাতুব্বর জানালেন, বয়স হয়ে গেলে এক পর্যায়ে অনেকেই আর গাছ কাটতে চান না। পুরাতন গাছিরা মারা গেলে নতুন করে কেউ আর গাছ কাটার মত কষ্টসাধ্য কাজ করে না।

শাহিন বললেন, 'মানুষ তো এখন এত পরিশ্রম করতে চায় না। অন্য কাম করলে একবেলা পাঁচশো টাহা। বিহান বেলা উইঠ্যা কে এই কাম করবে? আমার জামাই বাড়িতে আইছে, সকাল বাজারে যাইয়া এহন আইছি রস নামাইতে।'

গাছ মরে যাওয়াকেও গুড় হারিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনে করেন তিনি। তার মতে, এ জন্য অনেকাংশে দায়ী লোভী গাছি এবং গাছ মালিকেরা। বললেন, 'গাছ তো প্রতি বছরই দুই-চাইরডা মরে। কোনো কোনো গাছি বেশি কাডে (কাটে), আবার কুয়াশায় মরে, ঠাডা পড়ে। নতুন গাছ তো কেউ লাগায় না। আগে গাছের গোড়া দিয়ে গাছ হইতো। এখন তো জমি চাষ দেয়, গাছ হইতে পারে না। এই মান মন্দিরের নিগ্যাই (জন্য) তো তিন-চাইরশো গাছ গ্যাছে।'

কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানালেন, জেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা প্রায় চার লাখ হলেও গাছিদের অভাবে মাত্র এক লাখ গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। আর তাতেই দৈনিক বিশ হাজার কেজি গুড় উৎপাদিত হয় বলে তার মত। জানালেন, এই পরিমাণ গুড় উৎপাদন প্রায় দুই মাসব্যাপী চলবে। তিনি তাই বেশ আশাবাদী।

আগামী প্রজন্ম কি বঞ্চিত হবে?

শিশু সাব্বিরের বয়স এখন সাত বছর, অথচ খেজুরের রসের স্বাদ এখনও সে পায়নি। গুড়ের তৈরি পিঠা খেলেও সে জানে না এই গুড় তৈরির প্রক্রিয়া। তাহলে কি খেজুরের রস ও গুড়ের কথা একসময় ভুলেই যাবে আগামী প্রজন্ম?

মাতুব্বর করিমের মতে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই খেজুর রস ও খাঁটি গুড় খেতে পায়নি। আগামী প্রজন্ম হয়তো ভুলেই যাবে এ ঐতিহ্যের কথা। মাতুব্বর বললেন, 'জিজ্ঞেস করলে অনেকেই বলতে পারবে না শেষ কবে রস খেয়েছে। আর আগামী প্রজন্ম হয়তো রূপকথার গল্পের মতো শুনবে। গাছিরা যে গাছ কাটে, যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে, এগুলোর নামও আর কেউ জানবে না। খেজুর রস বেশিদিন থাকবে বলে মনে হয় না।'

ছবি: জুনায়েত রাসেল

তবে খেজুর রস ও গুড় নতুন করে মানুষের কাছে সমাদৃত হবে বলে আশাবাদী ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। তার মতে, নিপাহ ভাইরাসের ভয়ে অনেকে খেজুর গুড় বর্জন করেছিলেন। তবে নতুন প্রজন্মের অনেক উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছেন, বাদুড় বা অন্য কোনো প্রাণী যাতে রস নষ্ট করতে না পারে তারা সে ব্যবস্থা নিয়েছেন৷ রফিকুল ইসলাম মনে করেন, আগামী দিনে ফরিদপুরের খেজুর গুড় আবারও সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়বে, সমাদৃত হবে সর্বত্র।

Related Topics

টপ নিউজ

খেজুর গুড় / গুড় / ফরিদপুর

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: সংগৃহীত
    বিরোধী দলের আপত্তির মুখে সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাস
  • মাশুল প্রদানকারী জাহাজগুলোর জন্য প্রণালির ভেতর দিয়ে একটি পথ খোলা রেখেছে ইরান। ছবি: প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
    হরমুজের কোথায় কোথায় মাইন পেতেছিল ইরান নিজেই খুঁজে পাচ্ছে না, অপসারণের সক্ষমতা নেই, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
  • সিরিয়া ও ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমির সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ। ছবি: সংগৃহীত
    ইরানের এখনো হাজার হাজার মিসাইল অক্ষত; যেকোনো সময় মেরামত করতে পারবে লঞ্চার: গোয়েন্দা রিপোর্ট
  • বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজারের দিঘিতে কুকুরটি ছিটকে পড়লে কুমির টেনে নিয়ে যায়। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
    বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুর—ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা বললেন মাজারের নিরাপত্তাকর্মী
  • ছবি: আসমা সুলতানা প্রভা/টিবিএস
    ফলের রসের রহিম বিরিয়ানি: আট দশকেও সমান জনপ্রিয় 
  • ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    চার অধ্যাদেশ বাতিল: সংসদ কি পথ হারাইয়াছে?

Related News

  • মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে নিহতদের মরদেহ ফেরাতে সরকার সচেষ্ট: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
  • লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফরিদপুরের দিপালী
  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ৪ গ্রামের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত শতাধিক 
  • ফরিদপুরে জমি নিয়ে সালিশের মাঝে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১২
  • ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মধ্যরাতে টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

Most Read

1
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাস

2
মাশুল প্রদানকারী জাহাজগুলোর জন্য প্রণালির ভেতর দিয়ে একটি পথ খোলা রেখেছে ইরান। ছবি: প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

হরমুজের কোথায় কোথায় মাইন পেতেছিল ইরান নিজেই খুঁজে পাচ্ছে না, অপসারণের সক্ষমতা নেই, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

3
সিরিয়া ও ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমির সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

ইরানের এখনো হাজার হাজার মিসাইল অক্ষত; যেকোনো সময় মেরামত করতে পারবে লঞ্চার: গোয়েন্দা রিপোর্ট

4
বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজারের দিঘিতে কুকুরটি ছিটকে পড়লে কুমির টেনে নিয়ে যায়। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
বাংলাদেশ

বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুর—ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা বললেন মাজারের নিরাপত্তাকর্মী

5
ছবি: আসমা সুলতানা প্রভা/টিবিএস
ফিচার

ফলের রসের রহিম বিরিয়ানি: আট দশকেও সমান জনপ্রিয় 

6
ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ফিচার

চার অধ্যাদেশ বাতিল: সংসদ কি পথ হারাইয়াছে?

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net