ফরিদপুরে জমি নিয়ে সালিশের মাঝে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১২
ফরিদপুরের সালথায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংসার জন্য আয়োজিত সালিশের মাঝেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাতাগ্রাম এলাকার হেমায়েত মাতুব্বরের সাথে প্রতিপক্ষ মো. ফারুক মাতুব্বরের সমর্থক বাচ্চু চোকদারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিরোধপূর্ণ জমি মেপে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু জমি মাপামাপির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তেই তা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং দুই পক্ষের অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলায় মেহেদী মুন্সী, মিন্টু মুন্সী, সেলিম মুন্সী, হালিম মীর, মান্দার শেখ, মিজা, সেলিম চোকদার ও আসাদ শেখের বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন।
এই সংঘাতের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আব্বাস মাতুব্বর, তমিজদ্দিন মাতুব্বর, আসাদ শেখ, রাজ্জাক শেখ, পিকুল মাতুব্বর, লিটন মীর ও আলিম মীরকে গুরুতর অবস্থায় নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হেমায়েত মাতুব্বর ও ফারুক মাতুব্বরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
