ঢাকায় প্রয়োজনের বেশী চিকিৎসক, ঢাকার বাইরে সংকট
নির্ধারিত পদের তুলনায় রাজধানীতে ৪২ শতাংশ চিকিৎসক বেশি তবে ঢাকার বাইরে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) আয়োজনে ‘স্বাস্থ্যনীতি সংলাপে’ এ তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে সরকারি স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসকের সুষম বন্টন শীর্ষক চতুর্থ ‘স্বাস্থ্যনীতি সংলাপ’।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ড. ইকবাল আনোয়ার।
সেই প্রবন্ধে বলা হয়, ঢাকায় চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত পদ ৫ হাজার ৯৫৫ জন। চিকিৎসক রয়েছে ৮ হাজার ৪৭০ জন। নির্ধারিত পদের তুলনায় ঢাকায় ২ হাজার ৫১৪ জন চিকিৎসক বেশি রয়েছেন।
চট্টগ্রামে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ঘাটতি রয়েছে ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ, রাজশাহীতে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ, রংপুরে ৫৯ শতাংশ, খুলনায় ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ, বরিশালে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ, সিলেটে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৪০ দশমিক ৮শতাংশ।

ঢাকার বাইরে চিকিৎসকের সংকটের পেছনে কারণ হিসেবে প্রবন্ধে বলা হয়, “কেন্দ্রমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, তদারকি ও সুশাসনের কার্যকরী কাঠামোর অভাব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার অভাব, সেবাদানকারীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনার অভাব, প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকদের নাগরিক জীবনযাপনের নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা না থাকা- বিশেষ করে চিকিৎসকদের সন্তানদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যাবৃদ্ধিসহ নানা সমস্যার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের অবস্থা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনুমোদিত পদের বিপরীতে প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ পদ খালি পড়ে রয়েছে, যা সার্বিকভাবে সরকারি খাতে এই চিকিৎসক সংকট সৃষ্টি করছে।
প্রবন্ধে এই বিজ্ঞানী জানান, ৭৮৩ পদের বিপরীতে প্রায় ৪ হাজার ৭৪৯ জন চিকিৎসক বিশেষ ভারপ্রাপ্ত (ওএসডি) পদে ঢাকা বিভাগেই নিযুক্ত আছে। এতে করে বাংলাদেশের জেলা শহরে সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসক সংকট মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সমন্বিতভাবে এ থেকে সমাধানের পথ বের করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্যায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত পদ্ধতিতে কাজ করার মাধ্যমে সমাধানে আসতে হবে, তবেই সমস্যাগুলো মেটানো সম্ভব হবে। আমাদের মানবসম্পদ অপ্রতুল, আজ প্রতিদিনের তথ্য আমরা প্রতিদিন পাচ্ছি। অতীতে সেই তথ্যগুলোও আমাদেও হাতে ছিলনা। আজ ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থাপনার কারণে আমরা তা জানতে পারছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পদায়নের চেষ্টা করছি।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডাঃ এম.এ. ফয়েজ এর সভাপতিত্বে সংলাপটির সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।
