চিকিৎসকদের চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের
এমবিবিএস ডিগ্রিধারীদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিদ্যমান আইন-বিধি, প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা এবং জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টের শূন্য পদ পূরণ এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আরও দীর্ঘ সময় কাজে লাগানোর বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আলাদা দুটি প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এমবিবিএস ডিগ্রিধারীদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর পরিকল্পনা
নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফ জানতে চান এমবিবিএস ডিগ্রিধারীদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো হবে কিনা?
জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, এমবিবিএস ডিগ্রিধারীদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণ একটি নীতিগত ও বিধিবদ্ধ বিষয়।
তিনি বলেন, 'বর্তমানে প্রচলিত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সংক্রান্ত আইন, বিধি ও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসকদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা কার্যকর রয়েছে।'
তবে চিকিৎসক স্বল্পতা দূর করা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবায় আরও বেশি কাজে লাগানো এবং জনগণের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
মন্ত্রী জানান, এমবিবিএস ডিগ্রিধারীদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন-বিধি, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসকদের অবসরের বয়স ৬৫ করার বিষয়টি মূল্যায়ন
অন্যদিকে, মহিলা আসন-৩৩-এর সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার সরকারি চিকিৎসকদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর করার বিষয়ে জানতে চান। এর জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে 'সরকারি চাকরি আইন, ২০১৬' অনুযায়ী চিকিৎসকসহ সব সরকারি কর্মচারীর সাধারণ অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর।
তিনি বলেন, 'সরকারি চিকিৎসকদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করার বিষয়টি নীতিগত এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত। এটি জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সামগ্রিক সরকারি চাকরির কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত।'
তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধা যাতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজে লাগানো যায়, সে জন্য সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, বিশেষায়িত বা অতি জরুরি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ চিকিৎসকদের অবসরের পর সরকারি প্রয়োজন ও মেধার ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে অভিজ্ঞ অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের শূন্য পদে পুনর্নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে।
ভবিষ্যতে সার্বিক প্রশাসনিক নীতিমালা ও প্রয়োজন বিবেচনায় চিকিৎসকদের অবসরের বয়সসীমা পুনর্বিবেচনার বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে মূল্যায়ন করা যেতে পারে বলেও জানান মন্ত্রী।
