‘প্রসব বেদনা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন’ বলা কুমিল্লার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক খাইরাতুন হিসান কেয়া ও তার হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি এন্ড অবস্ বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. ফারজানা খন্দকারকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল এ কমিটি গঠন করেন। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, গত শনিবার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল সড়কের আল নুর হাসপাতালে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া তত্বাবধানে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের খামার পুস্করনী গ্রামের প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তারকে স্বাভাবিক প্রসব করানোর সময় নবজাতকের মাথায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এর ফলে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।
এরই জেরে গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রসূতির স্বজনেরা চিকিৎসক কেয়ার ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুললে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রচার করলে নিজের ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আপত্তিকর এক মন্তব্য করেন ডা. কেয়া।
নিজের ওই পোস্টে ডা. কেয়া লেখেন, 'আপনারা একটা কাজ করবেন, এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেনো উঠছে না, পানি কেনো ভাঙছে এই যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।' অবশ্য এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ডা. কেয়া।
প্রসূতি নাজমা আক্তারের প্রবাসী স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'প্রথম বাচ্চা জন্ম নিবে বলে আমি বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলাম। ডা. কেয়ার অবহেলায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়। আমার স্ত্রীও এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুরো পরিবার চিন্তিত। আমরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দোষী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।'
দায়িত্বে অবহেলার বিষয় সঠিক নয় দাবি করে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া বলেন, 'বাচ্চাটার নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু হচ্ছিল না। পরে ওই নারীকে কুমিল্লায় রেফার করি। আমার বিরুদ্ধে আনা দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি সঠিক নয়।'
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, 'আলোচিত ঘটনায় সাংবাদিকদের বিষয়ে মন্তব্যে আমরাও বিব্রত। বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
