দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মন ভালো হবে সাকিবের!

কয়েক দিনের ব্যবধান, মাঝে নানা নাটকীয়তা; অবশেষে মত পাল্টে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। গত ৬ মার্চ দুবাই যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অলরাউন্ডার জানান, শারীরিক ও মানসিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অবস্থায় নেই তিনি। এর পাঁচদিন পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাকিব জানালেন, সফরে যাচ্ছেন তিনি।
মানসিকভাবে আগের চেয়ে এখন কিছুটা ভালো বোধ করায় সাকিবের এমন সিদ্ধান্ত। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার মনে করেন, দুই-এক দিনেই এটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গেলে দ্রুত মন ভালো হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা সাকিবের।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার ব্যাপারে সাকিব বলেন, 'পাপন ভাইয়ের সাথে পড়শু রাতে কথা হয়েছে। কাল কথা হয়, আজও বোর্ডে কথা হয়েছে। আমরা পুরো বছরের পরিকল্পনা করতে পেরেছি। যেহেতু আমি তিনটি ফরম্যাটেই আছি। ফলে আমি তিন ফরম্যাটেই অ্যাভেইলেবল থাকব সব সময়। বোর্ড অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেবে কোন সময় আমাকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি বা দরকার। বোর্ড সব সময় সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকেই। তো আমি দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও অ্যাভেইলেবল।'
কয়েক দিনের ব্যবধানে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভালো অবস্থানে আসা গেছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে সাকিব বলেন, 'কোনো জিনিস তো এক-দুই দিনেই পরিবর্তন করা সম্ভব না। এখন অনেক বেটার স্পেসে আছি, যেহেতু আমার সামনে পুরো পরিষ্কার চিত্র আছে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গেলে হয়তো আরও তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। আপনি যদি আলাদা কোনো পরিবেশে যান, মানসিক অবস্থা অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। তো আশা করি, সে রকম কিছু হবে ভালোভাবে এবং দলের জন্য ভালো পারফর্ম করতে পারব।'
শনিবার দুপুরে সাকিবকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বৈঠক শেষে বিবিন্ন প্রশ্নের উত্তরের এক পর্যায়ে নাজমুল হাসান বলেন, 'ওর ধারাবাহিকতাটা দেখেন। ও প্রথমে ছুটি চেয়েছিল, তারপর বললো সে খেলবে, তারপর আবার বললোও ফিট না, তারপর আবার বললো খেলবো না, আবার বলছে খেলবে। ওর যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একটু মানসিক সমস্যা হচ্ছে, সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে।'
বিসিবি সভাপতির কথার জের ধরে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে সাকিবকে বিশ্রাম দিলেই ভালো হতো কিনা? বিসিবি সভাপতি তা মনে করছেন না। তার ভাষায়, 'সেই জন্য ও যাচ্ছে কাল, ও যদি ওখানে গিয়ে কোনো একটা ম্যাচে বিশ্রাম চায়, দিতে পারে। আমি চাচ্ছি এই বিতর্কের এখানেই অবসান হোক। ও সব ফরম্যাট খেলতে চায় এবং বোর্ড সেটা গ্রহণ করেছে। এমনও হতে পারে কোনো একটা ম্যাচে তাকে আমরা নাও খেলাতে পারি। ওর তো ইচ্ছা নাও করতে পারে। এখন এই সময়টা ওর পাশে থাকা উচিত।'