দিনভর নাটকের পর সমঝোতা, তবে অধিনায়কত্ব করবেন না মিরাজ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এসেছে চট্টগ্রামে। এখানে চারদিনে ৮টি ম্যাচ, যেখানে ঘরের মাঠ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ৪টি ম্যাচ। সেদিক থেকে এই পর্বটা তাদেরই হওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎ করে প্রধান কোচের চলে যাওয়া, অধিনায়কত্ব পাল্টানো নিয়ে স্বাগতিক শিবির ওলট-পালট।
রোববার দিনভর মিরাজ-চট্টগ্রামের মধ্যে নাটক চললো, থাকলো নানা মোড়। যদিও দিন শেষে দুই পক্ষই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। সমঝোতার পর চট্টগ্রামেই থেকে যাচ্ছেন মিরাজ। তবে দিনের শেষে করা সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অলরাউন্ডার জানিয়ে দিলেন, এখন চট্টগ্রাম চাইলেও আর অধিনায়কত্ব করবেন না তিনি।
হঠাৎ করে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ায় অপমানিত বোধ করা মিরাজ দল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। বিসিবির প্রধান নির্বাহী ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে চিঠি পাঠিয়ে জানান চট্টগ্রাম ছাড়ার ইচ্ছার কথা। চিঠিতে মায়ের অসুস্থতার কথা জানালেও মিরাজ দল ছাড়তে চেয়েছিলেন ম্যাচের মাত্র তিন ঘণ্টা আগে অধিনায়কত্ব হারানোর কারণেই।
যে অধিনায়কত্বের কারণে দল ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি, সেটা আর ফিরে পেতে চান না মিরাজ। দল চাইলে সেই দায়িত্ব নেবেন না তিনি, 'এখন যদি আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয়, সত্যি কথা বলতে আমি করব না। আমি এখন একজন খেলোয়াড় হিসেবে খেলব দলে। কিন্তু আমাকে যদি পরবর্তীতে ম্যানেজমেন্ট থেকে অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়, আমি করব না।'
'তবে ক্রিকেটার হিসেবে চেষ্টা করব নিজে ভালো পারফর্ম করার জন্য এবং দল যেন ভালো খেলে। যেহেতু দল আমার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করে। ভালো হচ্ছে ইনশা আল্লাহ, আমি চেষ্টা করব এভাবেই ভালো করার জন্য।' যোগ করেন মিরাজ।
ভুল বোঝাবুঝিতে এমন কঠিন অবস্থার তৈরি হয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিফাতুজ্জামান বলেন, 'এখানে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। যেখান থেকে আসলে একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ তৈরি হয়ে যায়। বিষয়টা তেমন বড় কিছু ছিল না যদি আগে কথা বলতো। আগে আগে কথা বলা হলে সমস্যাগুলো তৈরি হতো না। এখন আমরা কথা বলে সেগুলো সমাধান করেছি।'
বোরবার দুপুরে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন ছিল চট্টগ্রামের। এদিন দলের সঙ্গে মাঠে যাওয়া বা অনুশীলন, কোনোটাই করেননি মিরাজ। বিকালে সাড়ে ৫টার ফ্লাইটে ঢাকার ফেরার টিকেট কাটেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বিকাল সোয়া চারটার দিকে চট্টগ্রামের পেনিনসুলা হোটেল থেকে বের হয়ে যান মিরাজ।
নিচে গিয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন চট্টগ্রাম অলরাউন্ডার। এ সময় চট্টগ্রামের লজিস্টিক ম্যানেজার হিরক নিচে নেমে মিরাজকে অনেক বুঝিয়ে হোটেলে ফেরান। লবিতে বসে দীর্ঘক্ষণ মিরাজকে অনুরোধ করতে থাকেন হিরক। সোয়া পাঁচটার দিকে মিরাজকে নিয়ে উপরে ওঠেন তিনি। তখনও স্ত্রী-সন্তানকে গাড়িতে বসার কথা বলে যান মিরাজ। এর কিছুক্ষণ পর হিরক নিচে নেমে মিরাজের স্ত্রী-সন্তানকে উপরে নিয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।