মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ
বাজে শুরুর পর সাদমান ইসলাম অনিক ও অধিনায়ক মুমিনুল হকের ব্যাটে কিছুটা প্রতিরোধ। এদের বিদায়ে আবারও দিক হারা বাংলাদেশ। ১৩২ রানেই নেই ৬ উইকেট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যটে করতে নামা বাংলাদেশ তখন ঘোর সঙ্কটে। লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এই চাপ কাটিয়ে দলকে এগিয়ে নেন অনেকটা পথ।
এরপর ইনিংসের বাকিটা জুড়ে থাকলো মাহমুদউল্লাহ ও তাসকিন আহমেদের ব্যাটিং শাসন। নবম উইকেটে রেকর্ড ১৯১ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহে পৌঁছে দিয়েছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছে ৪৬৮ রানে।
তাসকিন ৭৫ রান করে ফিরলেও মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থেকে যান। ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি করা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ১৫০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। টেস্টে এটাই তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এরআগে লিটন ৯৫ ও মুমিনুল ৭০ রান করেন। জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি ৪টি এবং ডোনাল্ড টিরিপানো ও ভিক্টর নিয়াউচি ২টি করে উইকেট নেন।
থামলেন তাসকিন, হলো না বিশ্ব রেকর্ড
দিক হারিয়ে বসা দলকে পথ দেখাতে ব্যাট হাতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই পেসার হয়ে উঠেছিলেন পুরোদস্তর ব্যাটসম্যান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তাসকিন।
হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেও ব্যাট চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাসকিন। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তার গড়া জুটি বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পথে ছিল। কিন্তু বিশ্ব রেকর্ড থেকে ৪ রান দূরে থাকতে বিদায় নিলেন তাসকিন। ১৩৪ বলে ১১টি চারে ৭৫ রান করে বিদায় নেন বাংলাদেশের এই পেসার।
মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনের যোগ করা ১৯১ রান নবম উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি। এ পথে তারা পেছনে ফেলেন ২০১২ সালে মাহমুদউল্লাহ-আবুল হাসান রাজুর গড়া ১৮৪ রানের রেকর্ড জুটিকে। আর ৫ রান হলেই বিশ্ব রেকর্ড হতো। নবম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার ও প্যাট সিমকক্সের দখলে। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নবম উইকেটে ১৯৫ রান করেন তারা।
এটাই তাসকিনের প্রথম, ৪০০ ছাড়িয়ে বাংলাদেশ
দলের খারাপ সময়ে তাসকিন আহমেদ যেন ভুলে গেলেন তিনি একজন বোলার। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ব্যাটে হাতে দলকে এগিয়ে নিতে থাকলেন ডানহাতি এই পেসার। দারুণ সব শটে দলের স্কোরকার্ড সমৃদ্ধ করে চলা তাসকিন পূর্ণ করে নিয়েছে হাফ সেঞ্চুরিও।
আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে যেকোনো ফরম্যাটে এটাই তার প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। ৬৮ বলে ৮টি চারে ৫০ পূর্ণ করেন তাসকিন। ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পথে সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে তারা যোগ করেছেন ১৩৪ রান, যা নবম উইকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এই জুটিতে ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে ১৩২ রানেই ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ। ১০৭ ওভারে ৮ উইকেটে ৪০৪ রান তুলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে গেছে মুমিনুল হকের দল। টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া মাহমুদউল্লাহ ১১২ ও তাসকিন ৫২ রানে অপরাজিত আছেন।
প্রায় আড়াই বছর পর মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি
তাকে বলা হয় বাংলাদেশের দুঃসময়ের বন্ধু। ব্যাট হাতে আরও একবার তা প্রমাণ করলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে পথ দেখিয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। এ পথে দারুণ ব্যাটিংয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
দুই বছর চার মাস পর টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন মাহমুদউল্লাহ। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন অঙ্কে পৌঁছান তিনি। অবশ্য মাঝে এক বছর টেস্ট খেলার সুযোগই পাননি মাহমুদউল্লাহ। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। এই সফরে টেস্ট দলে হঠাৎ ডাক পেয়েই নিজের কার্যকারিতা বোঝালেন তিনি।
আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে ১৯৫ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাহমুদউল্লাহ। তার সঙ্গে দারুণ লড়ছেন তাসকিন আহমেদও। ৪৯ রানে অপরাজিত আছেন ডানহাতি এই পেসার। মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিং করছেন ১০৪ রানে। ১০০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৯২ রান। নবম উইকেটে ৯৮ রান যোগ করেছেন মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন।
'ব্যাটসম্যান' তাসকিনকে নিয়ে লড়ছেন মাহমুদউল্লাহ
২৭০ রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর স্কোরকার্ডে যোগ হয়েছে ৭৮ রান, কোনো উইকেট হারায়নি মুমিনুল হকের দল। একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে টিকে আছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের সঙ্গে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে চলেছেন পেসার তাসকিন আহমেদও।
দুঃসময়ে দলের হাল ধরা মাহমুদউল্লাহর জন্য নতুন কিছু নয়। দিকহারা দলকে অনেকবারই পথ চিনিয়েছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। তবে এই দায়িত্ব তাসকিনের নয়, বল হাতে দলের হয়ে অবদান রাখাই তার প্রধান কাজ। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে দশ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন তাসকিন। দারুণ সব শটে স্কোরকার্ডে রান যোগ করে যাচ্ছেন ডানহাতি এই পেসার।
নবম উইকেটে ইতোমধ্যে ৭৮ রানের জুটি গড়েছেন মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন। তাদের জুটিতে বড় হচ্ছে বাংলাদেশের স্কোর। ৯৩ ওভার শেষে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৪৮ রান। মাহমুদউল্লাহ ৭৩ ও তাসকিন ৩৬ রানের ব্যাটিং করছেন। টেস্টে এটাই তাসকিনের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ পেসারের আগের সেরা ইনিংস ৩৩ রানের।
২৯৪ রান তুলে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ৫৪ ও তাসকিন ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। এই দুই ব্যাটসম্যান আজ আরও ৫৪ রান যোগ করেছেন। দলের রান বাড়িয়ে নিতে এখনও ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং করে যাচ্ছেন তারা। বাজে শুরুর পর ১৩২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনের ব্যাটে সেই দলের দৃষ্টিই এখন ৪০০ রানে।
