নিখোঁজ ইন্দোনেশীয় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ মিলেছে সমুদ্রে
নিখোঁজ ইন্দোনেশীয় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ, ইউডু মার্গোনো।
বুধবার বালি সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া ৬ টি ধ্বংসাবশেষ শনিবার গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়। ধারণা করা হচ্ছে এগুলো সেই নিখোঁজ সাবমেরিনেরই ধ্বংসাবশেষ।
সাবমেরিন নিখোঁজের পর থেকে এখনো পর্যন্ত অক্সিজেনের অভাবে সাবমেরিনে থাকা ৫৩ ক্রুর ইতিমধ্যেই মৃত্যু ঘটেছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছিলো।
নিখোঁজ সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে রয়েছে এক বোতল গ্রিজ, একটি ট্ররপেডো লঞ্চার, একটি ধাতব টিউব, প্রেয়ার ম্যাট ও জ্বালা্নি। সমুদ্রের ৮৫০ মিটার গভীরতার স্থলে এগুলোকে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
কেআরআই নাংগালা-৪০২ নামক ঐ সাবমেরিনটিতে করে আগেপরে অভিযানে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে এসব ধ্বংসাবশেষ ওই সাবমেরিনেরই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রিজের বোতল দেখে শনাক্ত করা হয়েছে যে একই ধরনের গ্রিজ ওই সাবমেরিনের পেরিস্কোপে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
তবে ইউডুর মতে, সাবমেরিনটি বিস্ফোরিত হওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু এর উপর ভারি কিছুর চাপ পড়লে তা ফেটে গিয়ে কিছু জিনিসপত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
নিখোঁজ ইন্দোনেশীয় সাবমেরিনটি উদ্ধারে নিজেদের একটি পি-এইট পোসাইডন সাবমেরিন হান্টিং এয়ারক্রাফট নিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনী বুধবার জানায়, যেই স্থানে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, ঐ অঞ্চলের মধ্যে তারা হেলিকপ্টার ও জাহাজ ব্যবহার করে ৪৪ বছর পুরনো সাবমেরিনটি খোঁজার চেষ্টা করছে।
শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, সাবমেরিন উদ্ধার করতে অস্ট্রেলিয়াও একটি 'সোনার ইকুইপড ফ্রিগেট' বা শব্দ দ্বারা চিহ্নিত করার একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে হেলিকপ্টারের সঙ্গে। উদ্ধারের জন্য গভীর তলদেশে অনুসন্ধান করতে পারে এমন একটি জাহাজও ভারত থেকে আসার কথা রয়েছে। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে যে সাবমেরিনটি হয়তো পানির চাপেই ভেঙ্গে গিয়েছে।
ইনস্টিটিউট অফ ডিফেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর রিসার্চ ফেলো কলিন কোহ বলেন, 'সাবমেরিনটি পানির তলদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার সর্বোচ্চ গভীরতার মাত্রা পার করে ফেলার পর হয়তোবা বাইরে চাপে ভেতর থেকে ফেটে গিয়েছে।'
শুক্রবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবমেরিনটি যদি এখনো অক্ষত অবস্থায় থাকে তাহলে শনিবার ভোর পর্যন্ত চলার মত অক্সিজেন তাদের কাছে থাকবে।
ইন্দোনেশীয় সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র, আকমাদ রিয়াদ জানান, সাবমেরিনের ভেতরে থাকা যন্ত্রপাতি ঠিকমত কাজ করলে এখনো এটির অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব।
তবে অক্সিজেন ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে এটি একটি আশাবাদী চিন্তা হলেও কোহ জানান, অক্সিজেন এরই মধ্যে ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সাবমেরিনটি ৬০০-৭০০ মিটার তলদেশে চলে যাওয়ায় এর টিকে থাকার সীমা পার হয়ে গিয়েছিল কিনা এবং সে কারণেই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে বেরিয়ে আসতে পারেনি কিনা তা তদন্ত করে দেখছে ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনী।
সাবমেরিনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশীয় সাবমেরিন বহরের কমান্ডার হ্যারি সেতিয়াওয়ান।
গত শুক্রবার পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সচিব লয়েড অস্টিন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান প্রাবোয়ো সুবিয়ানতোর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সাবমেরিন উদ্ধারকল্পে সবরকম বাড়তি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সূত্র- সিএনএন
