জলবায়ু পরিবর্তনে মাথাপিছু জিডিপির ৩৬.৪৯% হারাচ্ছে বাংলাদেশ
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, ২০৪০-২০৫৯ সময়কালে দক্ষিণ এশীয় এই দেশটি তার মাথাপিছু জিডিপির ৩৬.৪৯ শতাংশ হারাবে।
শুক্রবার প্রকাশিত ‘ওয়েইজ টু অ্যাচিভ গ্রিন এশিয়া’ বা ‘গ্রিন এশিয়া অর্জনের উপায়’ শীর্ষক একটি বইতে এডিবি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বইটির ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক প্রভাব: এশিয়ান অর্থনীতিগুলির জন্য করণীয়’ শীর্ষক একটি অধ্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো খুঁজে বের করেছেন ইউসি-বার্কলে ভিত্তিক পরিবেশ অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমিলিয়ান অফহ্যামার।
বাংলাদেশ গত পাঁচ বছরে ৭.৩৯ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি উপভোগ করছে এবং আশা করা যায় যে আরও কয়েক বছর ধরে এই প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের মধ্যে হংকং, সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক এবং নরওয়ের মতো ‘হেভিওয়েট’ দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ, পরিণত হবে বিশ্বের ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে এই প্রবৃদ্ধি কতদিন টিকে থাকবে সে সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছে এডিবি।
বিশ্বব্যাপী বার্ষিক মোট কার্বন নিঃসরণের মাত্র ০.২৫ শতাংশ (৯২ টন) উৎপাদন করে বাংলাদেশ, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ক্ষতির শিকার হচ্ছে দেশটি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র গবেষণা ফেলো ড. মিনহাজ মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবদান কম হলেও বেশিরভাগ ক্ষতির শিকার কিন্তু এরাই হচ্ছে।
এশিয়া যে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হচ্ছে তার একটি সংক্ষিপ্তসার দেয় এডিবির এই বইটি। আরও কার্যকর পরিবেশগত প্রশাসনের জন্য নীতিগত সুপারিশও প্রস্তাব করা হয়েছে এতে। এখানে বলা হয়েছে, এশিয়ার দেশগুলিতে গত কয়েক দশকের দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশের ফলে পরিবেশের অবক্ষয় হয়েছে, হ্রাস পেয়েছে বায়ু মান, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন। আর এতে করে ক্ষুন্ন হচ্ছে জীবনযাত্রার মান।
আর পরিবেশের বাস্তুতন্ত্রের উপর অপূরণিয় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে এই চ্যালেঞ্জগুলো। তবে এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠেছেন নীতি নির্ধারকরা।
এডিবির গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তান তাদের মাথাপিছু জিডিপির যথাক্রমে ৩৮.৭৮ এবং ৩৯.৫৪ শতাংশ হারাবে।
গবেষণাপত্রে ম্যাক্সিমিলিয়ান অফহ্যামার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জগুলো প্রশমনে আমরা যদি এখন থেকেই উদ্যোগ নিই, তাহলে নিকট ভবিষ্যতে কার্বন নির্গমন হ্রাস অর্জনে ব্যয় কমে আসবে। এতে করে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো এড়াতে পারব আমরা। জলবায়ু পরিবর্তন যেহেতু একটি বিশ্বব্যাপী ঘটনা, কোনো একক দেশ বা কোনো একক দল এই সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। "
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাথে কথা বলতে গিয়ে ড. মিনহাজ বলেন, "পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির- একসঙ্গে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন।”
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাসে কিছু সুপারিশ করেন তিনি, "জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করতে আমরা কার্বন ট্যাক্স প্রবর্তন করতে পারি। তাছাড়া, অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। আমাদের কৃষিতে জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত প্রবর্তন করা দরকার।”
(https://tbsnews.net/economy/bangladesh-lose-3649-gdp-capita-climate-change-35643)
