'অভিশপ্ত ট্রাম্প'? মার্কিন প্রেসিডেন্ট মেসির পক্ষে বাজি ধরার পরই আর্জেন্টিনার হার; যখন যাকে সমর্থন দিয়েছেন সে-ই হেরেছে
স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর আবারও আলোচনায় এসেছে কথিত 'ট্রাম্প কার্স' বা ট্রাম্পের 'অভিশাপ'। কারণ, ম্যাচের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিওনেল মেসিকে নিয়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন।
খেলার আগে ফক্স নিউজের জেনি ট্যাফটকে দেওয়া পূর্বধারণকৃত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনো দলের পক্ষ নিচ্ছেন না, তবে মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা কঠিন।
তিনি বলেন, 'আমি বিষয়টি নিয়ে অনেক ভেবেছি। জানতাম, এই প্রশ্ন করা হবে। আমি এতে জড়াতে চাই না। তবে একটা কথা বলব—মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা খুব কঠিন। আমি কোনো পক্ষ নিচ্ছি না, কিন্তু মেসি সত্যিই অসাধারণ।'
ট্রাম্প ফাইনালেও উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাঠে নামলে দর্শকদের একাংশ তাকে দুয়ো দেন। রৌপ্যপদক গ্রহণের সময় ট্রাম্প ও মেসির সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎও হয়।
কেন আলোচনায় ট্রাম্পের 'অভিশাপ'?
ট্রাম্পকে নিয়মিত বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় এবং একাধিকবার তিনি ক্রীড়াঙ্গনের অনেক তারকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়েছেন। এর পরপরই কয়েকটি দল বা খেলোয়াড়ের পরাজয়ের ঘটনা ঘটায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'ট্রাম্পের অভিশাপ' নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দল
২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখেন। পরে ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। ফিফা এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে লেখে, 'এটাও উল্টে দিন।'
নিউইয়র্ক নিকস
২০২৬ এনবিএ (বাস্কেটবল) ফাইনালে ট্রাম্প যে একমাত্র ম্যাচটি মাঠে বসে দেখেছিলেন, সেটিতেই সান আন্তোনিও স্পার্সের কাছে ১১৫-১১১ ব্যবধানে হারে নিউইয়র্ক নিকস। ১৩ ম্যাচের জয়রথ থেমে যাওয়ার পর অনেক সমর্থক ট্রাম্পকে 'অভিশাপ' বলে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে 'সেজ' পুড়িয়ে প্রতীকীভাবে 'অভিশাপমুক্ত' করার চেষ্টাও করেন। যদিও পরে নিকস পাঁচ ম্যাচেই সিরিজ জিতে নেয়।
ওয়াশিংটন কমান্ডার্স ও ডেট্রয়েট লায়ন্স
২০২৫ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প ওয়াশিংটন কমান্ডার্সের একটি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। ওই ম্যাচে ডেট্রয়েট লায়ন্স ৪৪-২২ ব্যবধানে জেতে। ম্যাচে টাচডাউন করার পর লায়ন্সের ওয়াইড রিসিভার আমন-রা সেন্ট ব্রাউন 'ট্রাম্প ড্যান্স' উদ্যাপন করেন, যার জন্য পরে ক্ষমাও চান। এরপর লায়ন্স শেষ আট ম্যাচের পাঁচটিতে হেরে প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হয়। সাবেক এনএফএল (রাগবি) খেলোয়াড় কেনি স্টিলস সামাজিক মাধ্যমে এটিকে 'ট্রাম্প কার্স' বলে মন্তব্য করেন।
রাইডার কাপ
২০২৫ সালের রাইডার কাপে ট্রাম্প প্রথম দিনের খেলা দেখতে যান। তখন তিনি বলেছিলেন, 'আমরা জিতব, যেভাবেই হোক।' কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইউরোপ ১৫-১৩ ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। পরে ইউরোপীয় দলকে উদ্দেশ্য করে দর্শকদের দেওয়া স্লোগানের জন্য পিজিএ অব আমেরিকার সভাপতি ক্ষমা চান।
