ইয়ামালের প্রথম টিনেজার হিসেবে দুই শিরোপা জয়, আর্জেন্টিনার রেকর্ড ফাউল—যেসব রেকর্ড হলো ফাইনালে
অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে আর্জেটিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তুলল স্পেন। পুরো ম্যাচে লিওনেল মেসি ও তার দলকে বোতলবন্দি করে রেখেছিল স্প্যানিশরা। এরপর ম্যাচের ১০৬ মিনিটে লুইস দে লা ফুয়েন্তের তুরুপের তাস ফেরান তোরেস গোল করে দলকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত জয়।
ফাইনাল ম্যাচে বেশ কিছু রেকর্ড হয়েছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেগুলো।
আর্জেন্টিনার ২৫ ফাউল
ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মোট ২৫টি ফাউল করেছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৬টি ফাউলের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই এক ম্যাচে কোনো দলের সর্বোচ্চ ফাউলের রেকর্ড। তবে এবার মাঠের সেই আগ্রাসনের সমাপ্তিটা হয়েছে হৃদয়ভাঙা ট্র্যাজেডিতে।
পরিসংখ্যানের আয়নায় স্প্যানিশ আর্মাডা
২: স্পেনের এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা, ২০১০ সালের পর প্রথম। এর মাধ্যমে ইতিহাসের সপ্তম দল হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপ জয়ের এলিট ক্লাবে নাম লেখাল লা রোজা-রা।
৩: ইউরো চ্যাম্পিয়ন থাকা অবস্থায় বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দল এখন স্পেন (এর আগে ২০০৮-১০ সালে স্পেন এবং ১৯৭২-৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি এই কীর্তি গড়েছিল)।
৩: ফেরান তোরেসের ক্যারিয়ারের এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ গোল, তবে চলতি টুর্নামেন্টে প্রথম। ২০২২ বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি গোল করেছিলেন।
৩: বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে তোরেসের ১০৬ মিনিটের গোলটি জয়সূচক গোল হিসেবে তৃতীয় দীর্ঘতম। মারিও গোটশের পর তোরেস দ্বিতীয় বদলি খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপের ফাইনালে দলের জয়সূচক গোলটি করলেন।
১: পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছে মাত্র একটি (বেলজিয়ামের শার্ল ডি কেটেলিয়ারে সেই গোলটি করেন)। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম গোল খাওয়ার রেকর্ড।
৩৮: সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৮ ম্যাচে অপরাজিত রইল স্পেন। এর মাধ্যমে পুরুষ জাতীয় দল হিসেবে ইতালির গড়া (২০১৮-২১) সর্বকালের দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে দিল তারা।
৬/৭: বড় কোনো টুর্নামেন্টের ৭ ফাইনালের মধ্যে ৬টিতেই জিতেছে স্পেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কেবল জার্মানিই (৭) স্পেনের চেয়ে বেশি বড় শিরোপা জিতেছে।
৬৫ বছর ২৯ দিন: ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়লেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
১৫: বড় টুর্নামেন্টগুলোতে নিজের প্রথম ১৫ ম্যাচের একটিতেও হারেননি দে লা ফুয়েন্তে। বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে কোনো কোচের ক্যারিয়ারের এটাই দীর্ঘতম অপরাজিত পথচলা।
১৪/১৫: বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে শেষ ১৫টি ম্যাচের ১৪টিতেই জিতেছে স্পেন। তারা একমাত্র যে দলটিকে হারাতে পারেনি, সেটি হলো কেপ ভার্দে (০-০ ড্র)।
ইয়ামাল-কুবার্সি: নতুন প্রজন্মের দাপট
১৯ বছর ৬ দিন: মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখালেন লামিন ইয়ামাল। অন্যদিকে পাউ কুবার্সি (১৯ বছর ১৭৮ দিন) তালিকার সপ্তম স্থানে। এছাড়া পেলে (১৯৫৮ সালে ১৭ বছর ২৪৯ দিন) ও জুসেপ্পে বারগোমির (১৯৮২ সালে ১৮ বছর ২০১ দিন) পর ইয়ামাল হলেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার।
১: ফুটবল ইতিহাসের প্রথম টিনেজার হিসেবে একইসাথে ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়লেন ইয়ামাল।
১০: ফুটবল ইতিহাসে মাত্র দশম খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে বিশ্বকাপ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পেলেন ফাবিয়ান রুইজ, যিনি দুই ফাইনালেরই মূল একাদশে খেলেছেন।
১২১: ফাইনালে মোট ১২১টি নিখুঁত পাস দিয়েছেন কুবার্সি। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপ ফাইনালে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাস দেওয়ার রেকর্ড (১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের দুঙ্গার দেওয়া ১৩০টি পাস এখনো শীর্ষে)।
১, ১, ২: গোল্ডেন বল জেতা প্রথম স্প্যানিশ ফুটবলার হলেন রদ্রি। বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা প্রথম স্প্যানিশ কুবার্সি। আর উনাই সিমন হলেন গোল্ডেন গ্লাভস জেতা দ্বিতীয় স্প্যানিশ গোলরক্ষক।
৩২: ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের রোমারিওর পর রদ্রিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হয়েও গোল্ডেন বল জিতলেন।
আর্জেন্টিনার হৃদয়ভঙ্গ ও লিওনেল মেসির রেকর্ড
৪: ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনালে ওঠা শেষ চারটি দলই রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছেড়েছে (১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল, ২০২২ সালে ফ্রান্স ও ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনা)।
৩/৪: নিজেদের খেলা শেষ চার বিশ্বকাপ ফাইনালের তিনটিতেই রানার্স-আপ হয়েছে আর্জেন্টিনাকে।
১৩: বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর অবশেষে থামল আর্জেন্টিনার জয়যাত্রা। ২০২২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হারার পর এটিই তাদের প্রথম হার।
০: গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপ ফাইনালে অন-টার্গেট একটি শটও নিতে না পারা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা। আর এই লজ্জার কীর্তি তারা গড়ল মোট তিনবার— ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২৬ সালে।
১: ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালের মূল একাদশে মাঠে নামলেন লিওনেল মেসি। ব্রাজিলের কাফুর পর তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনটি ফাইনাল খেললেন। তবে ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডটি এখন শুধুই মেসির।
৩৯ বছর ২৫ দিন: বিশ্বকাপ ফাইনালের মূল একাদশে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড প্লেয়ার এখন লিওনেল মেসি (৩৯ বছর ২৫ দিন)।
২০ বছর ১৯ দিন: বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এই প্রথম মুখোমুখি দুই দলের দুই তারকার বয়সের ব্যবধান ছিল ২০ বছরেরও বেশি (২০ বছর ১৯ দিন)—লিওনেল মেসি (জন্ম: জুন ১৯৮৭) ও লামিন ইয়ামাল (জন্ম: জুলাই ২০০৭)।
৫৪: পুরো ম্যাচে মেসি বল স্পর্শ করেছেন মাত্র ৫৪ বার। বিশ্বকাপের মূল একাদশে খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম সর্বনিম্ন টাচ।
১১: স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে মোট ১১টি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো গোলরক্ষকের এটাই সর্বোচ্চ সেভ।
৬: বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা ষষ্ঠ খেলোয়াড় হলেন এনজো ফার্নান্দেজ। ২০১০ সালে স্পেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের জনি হেইটিঙ্গার পর তিনি প্রথম এই কার্ড দেখলেন।
