বিশ্বকাপ থেকে ব্যতিক্রমী স্মারক নিয়ে ফিরলেন নরওয়ে তারকা আর্লিং হলান্ড
নরওয়ে হয়তো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হতাশাজনকভাবে হেরেছে, কিন্তু দলের তারকা খেলোয়াড় আর্লিং হলান্ড শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর মতোই আলোচনায় ছিলেন।
গত এক মাস ধরে ২৫ বছর বয়সী, লম্বা সোনালি চুলের এই নরওয়েজিয় ফুটবলার মাঠের ভেতরে ও বাইরে তার সহজ-সরল ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কারণে ইন্টারনেটে ভাইরাল এক তারকায় পরিণত হয়েছেন।
সর্বশেষ এমন এক কাণ্ড ঘটিয়ে তিনি আবারও ভক্তদের হাসিয়েছেন। নরওয়েতে ফেরার সময় তিনি সঙ্গে করে এনেছেন এক অদ্ভুত স্মারক— ট্যাক্সিডার্মি করা একটি র্যাকুন।
ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকারকে বিমান থেকে নামার সময় তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি গর্বের সঙ্গে একটি স্টাফ করা র্যাকুন কোলে নিয়ে আছেন, যার হাতে আবার একটি মদের বোতলও রয়েছে।
সোমবার ইনস্টাগ্রামে হলান্ড লিখেছেন, 'ও নিজেই আমার সঙ্গে বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে।' এর সঙ্গে তিনি আরও একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে বিমানবন্দরের রানওয়েতে সেই স্মারকটি হাতে নিয়ে হাঁটতে দেখা যায়।
ছবিটি এবং তার সঙ্গে লেখা ক্যাপশন দেখে ভক্তরা দারুণ মজা পেয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে একজন মন্তব্য করেন, 'পৃথিবীতে তোমার মতো একজন মানুষ আছে—এটা আমাদের জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের।'
আরেকজন লিখেছেন, 'আমি নিশ্চিত, সে এটা টেক্সাস থেকেই কিনেছে।' অন্যরা আবার এই ঘটনাকে 'কিংবদন্তিতুল্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং হলান্ডের পোস্টে হাসির প্রতীক দিয়ে মন্তব্য করেছেন।
এই র্যাকুনটি হলান্ডের সাম্প্রতিক নানা দুষ্টুমি ও মজার ঘটনার তালিকায় নতুন সংযোজন মাত্র। এসব ঘটনাই তাকে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট তারকায় পরিণত করেছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তার প্রথম ভাইরাল মুহূর্তগুলোর একটি ছিল মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময়। তখন তার মাথা ও ঘাড় সামনের দিকে প্রসারিত ছিল এবং কাঁধ ছিল শক্ত হয়ে থাকা।
তার এই অস্বাভাবিক হাঁটার ভঙ্গি নিয়ে অসংখ্য মিম, অনুকরণমূলক ভিডিও এবং নানা অদ্ভুত তুলনা তৈরি হয়। কেউ সেটিকে পেঁয়াজকলির মাথার অংশের সঙ্গে তুলনা করেছেন, আবার কেউ বিভিন্ন অদ্ভুত আকৃতির বস্তুর সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়ার বিষয়টিও হলান্ডকে নিয়ে আলোচনার আরেকটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
একটি ভিডিওতে তাকে কাউবয় টুপি কিনতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, এই টুপিতে তাকে 'একেবারে সত্যিকারের কাউবয়ের মতো' দেখাচ্ছে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ভক্ত এগিয়ে আসার পর তিনি নিজেকে দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মী বলে অভিনয় করছেন। তখন এক নারী হলান্ডকে বলেন, 'কেউ একজন আমাকে বলেছে, আপনাদের মধ্যে একজন নাকি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকাদের একজন।' তখন হলান্ড তার ইউটিউব প্রযোজক জনাথন টার্টনের দিকে ইশারা করেন।
তখন টার্টন নিজের বাহুর পেশি ফুলিয়ে মজা করে বলেন, 'আপনি তাকিয়েই আছেন তার দিকে।'
এরপর হলান্ড ওই নারীকে বলেন, তাদের দুজনের সঙ্গে একটি ছবি তুলতে এবং সেটি তার বন্ধুকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করতে—দুজনের মধ্যে কে আসল ফুটবল তারকা।
এরপর অতিরঞ্জিত দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চারণে তিনি বলেন, 'কোনো সমস্যা নেই, সবাই।'
তিনি নিজের আরেকটি ভিডিওও শেয়ার করেন, যেখানে তাকে নিউইয়র্ক শহরের একটি ডেলির স্যান্ডউইচ খেতে দেখা যায়।
একটি কালো রঙের এসইউভি গাড়ির পেছনের আসনে বসে হলান্ড মাংসে ঠাসা বিশাল স্যান্ডউইচটির দিকে তাকান এবং এরপর সেটিতে বড় একটি কামড় দেন। স্বাদে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি মাথা নাড়েন, তারপর ক্যামেরাধারীর দিকে তাকিয়ে জোরে হেসে ওঠেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো সময়ের স্মৃতি ধরে রাখতে হলান্ড একটি বাসের ভেতরে তোলা নিজের একটি সেলফিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন।
সেখানে তার মাথায় উল্টো করে পরা একটি টুপি এবং চোখে ছিল রোদচশমা। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, 'বিদায়,' এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার প্রতীক যোগ করে আরও লেখেন, 'সময়টা ছিল আবেগে ভরা।'
