অতিরিক্ত সময়ে আত্মঘাতী গোলে হৃদয় ভাঙল কেপ ভার্দের, ঘাম ঝরানো জয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের গোলে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বের অন্যতম বড় অঘটন থেকে বাঁচলেন লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা।
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে ১০টি দ্বীপের সমষ্টি কেপ ভার্দের জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার। বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে খেলা দেশগুলোর মধ্যে তারাই ক্ষুদ্রতম। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের আছে ৬৪-তম অবস্থানে। প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচেই স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ফুটবলবিশ্বকে চমক দিয়েছিল দেশটি। এর পর উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করে জায়গা করে নেয় শেষ ৩২-এ।
অন্যদিকে গতবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা অনায়াসেই শেষ ষোলোয় উঠবে বলে ধরে নিচ্ছিল সবাই। এদিন ২৯ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। চলতি আসরে এটি তার সপ্তম গোল। এই গোলের সুবাদেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ২০টি গোলের নজির গড়েন তিনি।
ম্যাচের রাশ লিওনেল স্কালোনির দলের হাতেই ছিল। মুহুর্মুহু আক্রমণও শানাচ্ছিল তারা। কিন্তু আচমকা খেলার গতি পাল্টে দিয়ে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে গোল করেন ডেরয় দুয়ার্তে। স্তম্ভিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনা শিবির।
গোলটিতে সহায়তা করেন কেপ ভার্দের অধিনায়ক রায়ান মেন্ডেস। নিউজিল্যান্ডে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে; সেই অভিযোগের পুলিশি তদন্ত চলছে বলে এক সপ্তাহ আগেই খবর আসে। তারপরেই এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
এবারের আসরে আগেই নজর কেড়েছিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনহা। এই ম্যাচেও মেসির সঙ্গে একটি 'ওয়ান-অন-ওয়ান' পরিস্থিতিতে দুরন্ত সেভ করে ব্যবধান ১-১ রাখেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। ফ্রি-কিকের সময় রক্ষণভাগ সাজাতে ব্যস্ত থাকার ফাঁকে ভোজিনহাকে বোকা বানিয়ে আচমকা শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। কিন্তু তৎপরতার সঙ্গে সেই বলও প্রতিহত করেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।
এরপর কেপ ভার্দের পিকো লোপেসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু বলটি প্রথমে তার মাথায় লেগে হাতে আসায় সেই আবেদন নাকচ করেন রেফারি।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে মেসির একটি দিক বদলানো ফ্রি-কিক অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বাঁচিয়ে দেন ভোজিনহা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচের চিত্র বিশেষ বদলায়নি। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
কিন্তু কেপ ভার্দেকে সমতায় ফেরান সিডনি লোপেস কাবরাল। এই লেফট ব্যাকের ডান পায়ের অসাধারণ শট টপ কর্নার দিয়ে সোজা জালে জড়িয়ে যায়। গোল করার পরেই মাঠ ছেড়ে গ্যালারিতে উঠে উদ্যাপনে মাতেন তিনি। হার্ড রক স্টেডিয়ামে তখন রীতিমতো উন্মাদনা।
কিন্তু কেপ ভার্দের হৃদয় ভাঙল ১১১ মিনিটে। মেসির কর্নার থেকে হেডে গোল করার চেষ্টা করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। বলটি দিনে বোর্হেদের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়। এই আত্মঘাতী গোলেই জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
আগামী ৭ জুলাই শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
