বিশ্বকাপে লাল কার্ড, পরবর্তী ম্যাচের জন্য বালোগুনকে ‘ক্ষমা’ করতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ দাবি মার্কিন সমর্থকদের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকদের একাংশ বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বাতিলে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বুধবার লেভিস স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারায় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ে স্টাড লাগার ঘটনায় ভিএআর পর্যালোচনার পর বালোগুনকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
এতে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন এবং সোমবার সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষের ম্যাচটিতে বালোগুন টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন।
প্রথমে ঘটনাটি স্বাভাবিক বল দখলের লড়াই মনে হলেও, ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায় বালোগুনের জুতার স্টাড [ফুটবল বুটের তলার দিকের ধাতব বা প্লাস্টিকের তৈরি উঁচু গোঁজ বা কাঁটাগুলোকে বোঝায়] মুহারেমোভিচের পা, কাফ ও পায়ের পাতায় আঘাত করে। এতে ইতালিয়ান এই ডিফেন্ডার ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পডকাস্টার ম্যানি ফিদেল লেখেন, 'ট্রাম্প যদি অবৈধভাবে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে চান, তাহলে এখনই ইনফান্তিনোকে ফোন করে বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল করাতে পারেন।'
অনেকেই ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ ট্রাম্পের পাওয়া 'ফিফা পিস প্রাইজ'-এর কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী লাল কার্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই। এ ছাড়া ফিফা সভাপতির কোনো খেলোয়াড়ের লাল কার্ড বাতিল করার নজিরও নেই।
যদিও 'ফিফা পিস প্রাইজ'-এরও আগে কোনো নজির ছিল না। কিন্তু গত ডিসেম্বরে ইনফান্তিনো সেই পুরস্কার চালু করেন এবং ট্রাম্পকে তিনি পুরস্কারটি দেন।
লেখক স্টিভ ম্যাগনেস এক্সে লেখেন, 'ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত তার ফিফা পিস প্রাইজের প্রভাব ব্যবহার করে ফিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক ফ্লো বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল করা হয় এবং তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারেন।'
আরেক সমর্থক রসিকতা করে লেখেন, 'যদি ট্রাম্প বালোগুনের লাল কার্ড বাতিলই করাতে না পারেন, তাহলে ওই ফিফা পিস প্রাইজের মূল্য কী?'
আরেকজন ট্রাম্পের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার আহ্বানের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, 'মাইক পেন্সের সাহস থাকলে সোমবার বালোগুন খেলতে পারবে।'
কিছু পোস্টে রসিকতা থাকলেও, অনেকের মন্তব্য ছিল বেশ আন্তরিক। একজন লেখেন, 'ট্রাম্প সম্পর্কে আমি ভালো যে একটিই কথা বলতে পারি, তা হলো—আমি বাজি ধরে বলতে পারি, তিনি কোনো না কোনোভাবে ইনফান্তিনোকে দিয়ে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারেন।'
এমন ধারণা পুরোপুরি অমূলকও নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কারণ চলতি বছর ইনফান্তিনো প্রথা ভেঙে আসন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালের পর ট্রাম্পকে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
এর আগে ইনফান্তিনোকে '৪৫-৪৭' লেখা একটি টুপি পরতেও দেখা গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নির্দেশ করে।
বুধবার তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বসে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচটি উপভোগ করেন।
ট্রাম্পের এক সমর্থক পরামর্শ দেন, ট্রাম্প যেন রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে বালোগুনকে 'ক্ষমা' করে দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প এর আগে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জনকে ক্ষমা করেছেন, যাদের অনেকেই তাকে বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছেন বা তার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন।
ফক্স নিউজের ভাষ্যকার ও ট্রাম্প-সমর্থক ক্লে ট্রাভিস এক্সে লেখেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ঘোষণা দেন যে তিনি ফিফা কর্মকর্তার ভুল সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে বালোগুনকে ক্ষমা করছেন এবং তাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে দিচ্ছেন, তাহলে ইন্টারনেটে ঝড় বয়ে যাবে।'
ক্লে ট্রাভিস বালোগুনের লাল কার্ড বাতিলের পক্ষে মন্তব্য করলেও তিনি ও ট্রাম্প সমালোচনার মুখে পড়েন। কারণ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাভিস জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সমালোচনা করেছিলেন।
অথচ নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া ও যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা বালোগুন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলছেন মূলত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের কারণেই।
তাই বুধবার রাতে বালোগুনের লাল কার্ড ইস্যুতে ট্রাভিস সরব হলে অনেকেই তাকে ও ট্রাম্পকে তাদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ববিরোধী অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দেন।
একটি ব্যঙ্গাত্মক অ্যাকাউন্টে লেখা হয়, 'ক্লে ট্রাভিসের মত যদি কার্যকর হতো, তাহলে ১-০ ব্যবধানের গোলদাতা বালোগুন যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে পারতেন না। তিনি এখানে আছেন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের কারণেই।'
সমালোচকেরা আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আরেক গোলদাতা মালিক টিলম্যান জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন মার্কিন সেনাসদস্য এবং মা জার্মান।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অভিবাসনের বিরোধিতা করে আসছেন এবং নাগরিকত্ব পাওয়া কিছু অভিবাসীর নাগরিকত্ব বাতিলের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।
