মেসির জন্য এক নিয়ম, বাকিদের জন্য আরেক? ভিএআরে মার্কিন ফরোয়ার্ডের লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক
বুধবার রাতে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ১০ জনের দল নিয়েও ২–০ গোলে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দলটি খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। তবে জয় পেলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দলটির ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড নিয়ে।
প্রথমার্ধে দলের হয়ে গোল করা ২৪ বছর বয়সী বালোগান দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ভিএআর পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। সিদ্ধান্তটি নিয়ে ম্যাচের পরপরই বিতর্ক শুরু হয়।
ঘটনাটি ঘটে দ্বিতীয়ার্ধের সময় বল দখলের লড়াইয়ে। ৬১ মিনিটে বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ে কড়া ট্যাকল করেন বালোগান। ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে কোনো ফাউলই দেননি। পরে দুই খেলোয়াড় আহত হয়ে খেলা থেমে গেলে ভিএআর কর্মকর্তারা তাকে সাইডলাইন মনিটরে ঘটনাটি দেখতে বলেন। রিপ্লে দেখার পর ক্লাউস সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অনেকেই তুলনা টানেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি ট্যাকলের। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মেসি একই ধরনের চ্যালেঞ্জ করলেও কোনো কার্ড দেখেননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, 'মেসির জন্য এক নিয়ম, বালোগানের জন্য আরেক?'
বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংল্যান্ড নারী দলের স্ট্রাইকার সু স্মিথ বলেন, 'রিপ্লে থামিয়ে দেখালে এটা শতভাগ লাল কার্ড মনে হয়। কিন্তু বাস্তব গতিতে দেখলে সিদ্ধান্তটি খুবই কঠোর।'
স্মিথ বলেন, 'সে (বালোগান) মূলত বল রক্ষা করার চেষ্টা করছিল, শরীর দিয়ে ঢেকে রাখতে চেয়েছিল। শুধু পা রাখার জায়গাটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল।'
লাল কার্ডের পর বাকি প্রায় ২৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেললেও যুক্তরাষ্ট্রকে তেমন চাপে ফেলতে পারেনি বসনিয়া। বরং ৮২ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মালিক টিলম্যান। সেই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।
গুরুতর ফাউলের কারণে বালোগানকে অন্তত এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকতে হবে। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চাইলে এই নিষেধাজ্ঞা আরও এক বা দুই ম্যাচ বাড়াতে পারে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই।
