রোমাঞ্চকর ম্যাচে মেক্সিকোর দুর্গ জয় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের ইংল্যান্ড
লাল কার্ড, দুই পেনাল্টি আর টানটান উত্তেজনায় ভরা এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড।
সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুটি গোল করে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জুড বেলিংহাম। পেনাল্টি থেকে অন্য গোলটি করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। মেক্সিকোর হয়ে গোল দুটি করেন হুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেজ।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে চাপে রাখে মেক্সিকো। একের পর এক আক্রমণে ইংলিশ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকে টমাস টুখেলের শিষ্যরা। ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন বেলিংহাম। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে জোড়া গোল করার কীর্তিও গড়েন ২৩ বছর বয়সী এই তারকা।
তবে বিরতিতে যাওয়ার আগে ব্যবধান কমায় মেক্সিকো। ৪২ মিনিটে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে স্বাগতিকদের আশা জাগিয়ে রাখেন হুলিয়ান কিনোনেস।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচে নতুন মোড় আসে। ৫৩ মিনিটে মেক্সিকোর গ্যালার্দোকে বিপজ্জনক ট্যাকল করার ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসাহ। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে।
তবে একজন কম নিয়েও আক্রমণে ধার হারায়নি ইংলিশরা। ৫৮ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট-কিক থেকে হ্যারি কেইন গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায় মেক্সিকো। ৬৯ মিনিটে নিজেদের বক্সে কেইনের ফাউলের ঘটনায় আবারও ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। রাউল হিমেনেজ স্পট-কিক থেকে গোল করলে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২।
শেষ দিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিফেন্ডার ড্যান বার্নকে নামিয়ে রক্ষণ আরও শক্ত করেন টুখেল। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা হয় ১১ মিনিট। এতে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
যোগ করা সময়ে মেক্সিকোর গোলরক্ষকও কর্নারের সময় ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে উঠে আসেন। একের পর এক কর্নার ও আক্রমণ সামলে দেন জন স্টোনস এবং গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তির উল্লাসে ফেটে পড়ে ইংল্যান্ড শিবির। রুদ্ধশ্বাস এই জয় দিয়ে আজতেকা স্টেডিয়াম থেকেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে 'থ্রি লায়ন্স'রা।
