শেষ মুহূর্তে গোল বাতিল, বিশ্বকাপ স্বপ্ন সুতোয় ঝুলছে ইরানের; প্রথমবার নক আউটে মিসর
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্ত। বল জালে জড়িয়েই বুনো উল্লাসে মাতলেন ইরানের শোজা খলিলজাদেহ। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টিকল না। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল হয়ে গেল সেই গোল। আর এতেই ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ইরানকে, সুতোয় ঝুলে রইল তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
অন্যদিকে, এই ১-১ গোলের ড্রয়ের সুবাদেই 'জি' গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে প্রথমবারের মতো নক আউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মিসর। ১৯৩৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের দীর্ঘ ৯২ বছর পর এই প্রথমবার নক আউটে পৌঁছাল দলটি।
আগামী ৩ জুলাই ডালাসে নক আউট পর্বের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে মিসর।
ম্যাচের চিত্র
এই ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় মাহমুদ সাবেরের গোলে এগিয়ে যায় মিসর। তবে ১৪ মিনিটেই একটি দুর্দান্ত শটে গোল করে ইরানকে সমতায় ফেরান রামিন রেজাইয়ান।
ম্যাচের শেষ দিকে ইনজুরি টাইমে চরম নাটকীয়তার জন্ম দেন খলিলজাদেহ। তার ওই বাতিল হওয়া গোলের পর ইরান আরও দুটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু মিসরের রক্ষণভাগ দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে সেই আক্রমণগুলো রুখে দেয়।
যে সমীকরণে টিকে আছে ইরান
এই ড্রয়ের পরও ইরানের নক আউট পর্বে যাওয়ার আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ৩২ দলের নক আউট পর্বে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল সুযোগ পাবে। এই তালিকায় ইরান বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
গ্রুপ পর্বের আরও তিনটি গ্রুপের খেলা বাকি আছে। নক আউটে যেতে হলে ইরানকে এখন প্রার্থনা করতে হবে, যাতে বাকি থাকা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর মধ্যে অন্তত একটি দলের পয়েন্ট বা গোল ব্যবধান তাদের চেয়ে খারাপ হয়।
তবে বেশ কয়েকটি সমীকরণ ইরানের বিপক্ষে যেতে পারে। 'জে' গ্রুপে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া যদি ড্র করে এবং উভয় দলই পরের রাউন্ডে যায়, ডিআর কঙ্গো যদি উজবেকিস্তানকে হারায় এবং ক্রোয়েশিয়া যদি ঘানার বিপক্ষে অন্তত এক পয়েন্ট পায়—তবে ইরান বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে।
এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বেলজিয়াম। পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে মিসরকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।
