ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাম্পেইন: ১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ‘বাংলা কিউআর’
আগামী ১ জুলাই থেকে দেশের সব ধরনের মার্চেন্ট পেমেন্ট পয়েন্টে বা দোকানে ইন্টার-অপারেবল (যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস থেকে ব্যবহারযোগ্য) লেনদেন ব্যবস্থা 'বাংলা কিউআর' বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকরের আগে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে বুধবার (২৪ জুন) দিনব্যাপী একটি প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই 'বাংলা কিউআর ট্রানজেকশন ক্যাম্পেইন'-এ বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। তাঁরা নগদ টাকার পরিবর্তে বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নেন। ক্যাম্পেইন উপলক্ষে কার্যালয় প্রাঙ্গণে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, আগোরা, মীনা বাজার, স্বপ্ন, ইউনিমার্ট, সেভয় আইসক্রিম, আরএফএল গ্রুপ ও মিস্টার ডিআইওয়াই-সহ বিভিন্ন সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী স্টল বসানো হয়।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অপর ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বাংলা কিউআর-এর ব্যাপক ব্যবহার লেনদেনকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ, নিরাপদ ও সুবিধাজনক করবে। এর ফলে গ্রাহকদের বাড়তি নগদ টাকা বহন করার ঝামেলা পোহাতে হবে না। তারা একদম সুনির্দিষ্ট অংকের, এমনকি খুচরা টাকাও সহজে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে পারবেন।
সারা দেশে এই সেবার সহজলভ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে, সব ব্যাংক এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) তাদের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে বাংলা কিউআর প্রযুক্তি যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান আরও বলেন, "ডিজিটাল লেনদেনের এই সম্প্রসারণ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে বড় ভূমিকা রাখবে। এটি জিডিপি বাড়াতে এবং আরও বেশি মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় এনে সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।"
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ বলেন, দেশে ডিজিটাল লেনদেন যত বাড়বে, অর্থনীতিতে তত বেশি স্বচ্ছতা আসবে। এটি সরকারের করের আওতা বাড়াতে এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের কর ও জিডিপির অনুপাত উন্নত করতে সাহায্য করবে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী বছর একটি ইন্টার-অপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ওয়ালেটের মধ্যে রিয়েল-টাইমে বা তাৎক্ষণিকভাবে তহবিল স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
একটি শক্তিশালী ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামো দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, লেনদেনের খরচ কমাবে, জরুরি তহবিল স্থানান্তর সহজ করবে এবং প্রতিটি লেনদেনের তথ্য বা ট্রেইল সংরক্ষিত থাকায় অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে, দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান 'নগদ' বাংলা কিউআর এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) নেটওয়ার্কের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে বাংলা কিউআর প্ল্যাটফর্মের অধীনে থাকা প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্ট বা বিক্রেতার বিশাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলো 'নগদ'।
পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন তাৎক্ষণিক 'ট্রান্সফার মানি' ফিচারও চালু করেছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিভিন্ন ব্যাংক এবং অন্যান্য এমএফএস অপারেটরদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের মাঝে কোনো ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি টাকা স্থানান্তর করতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন চৌধুরী এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন উপস্থিত ছিলেন।
