২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ড্রোন ঠেকানোর প্রযুক্তিতে ১১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র
আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ এবং মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমবার ড্রোন ঠেকানোর প্রযুক্তিতে ১১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)।
এই অর্থের তদারকি করবে ডিএইচএস-এর একটি নতুন অফিস। অফিসটি দ্রুত ড্রোন শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধ প্রযুক্তি কেনা ও মোতায়েনের ওপর গুরুত্ব দেবে।
উচ্চ-পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ডিএইচএস-এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি, বিভাগটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী কঠোর নীতি বাস্তবায়নেও মনোযোগ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের পেছনে মাদক কার্টেলগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কার্টেলগুলো মাদক পাচার এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির জন্য নিজের ড্রোন ও সাইবার হামলার ক্ষমতা ব্যবহার করছে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম বলেছেন, 'ড্রোনই এখন আমেরিকার আকাশে নতুন আধিপত্যের প্রতীক।'
গত কয়েক বছরে সস্তা ও অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় ড্রোন জননিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) প্লে-অফ ম্যাচ চলাকালীন বাল্টিমোরের এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক স্টেডিয়ামের ওপর ড্রোন ওড়ানোর দায়ে একজন ব্যক্তি দোষ স্বীকার করেছেন। এছাড়া, ২০২৪ সালে নিউ জার্সিতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোনের আনাগোনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল এবং আইনপ্রণেতারা প্রশাসনকে তা নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এই গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপে ড্রোন যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, তা নিশ্চিত করতে ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বেড়েছে। ম্যাচগুলো আমেরিকার ১১টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এবং এই টুর্নামেন্টে এক লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক দর্শক অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএইচএস-এর অংশ ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি গত মাসে ১১টি বিশ্বকাপ আয়োজনকারী অঙ্গরাজ্যকে ড্রোন ঠেকানোর প্রযুক্তি কেনার জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন যেসব মাদক কার্টেলকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে চোরাচালান এবং নজরদারির কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রোনে প্রাণঘাতী অস্ত্র যুক্ত করার সম্ভাবনাও মানুষকে উদ্বিগ্ন করেছে। কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে নজরদারিতে ব্যর্থতা মারাত্মক ফলাফল ডেকে আনতে পারে।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের ইন্সপেক্টর জেনারেলের গত বছরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ বা তার আগে একটি মেক্সিকান মাদক কার্টেল মেক্সিকো সিটিতে একজন সিনিয়র এফবিআই কর্মকর্তার গতিবিধি নজরে রাখার জন্য হ্যাকারকে ভাড়া করেছিল। হ্যাকার শহরের ক্যামেরা সিস্টেম থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিল, যা কার্টেলকে সম্ভাব্য এফবিআই তথ্যদাতাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।
