খরচ কমানোর চাপে পেছাচ্ছে সৌদির ২০৩৪ বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ; কম ব্যয়ের নতুন নকশা জমার নির্দেশ
২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপেকে সামনে রেখে সৌদি আরবে স্টেডিয়াম তৈরির যে তোড়জোড় ছিল, তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। দেশটির 'পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড' (পিআইএফ) খরচ কমাতে চাওয়ায় স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।
স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ পাওয়া বেশ কয়েকটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানকে তাদের নকশা বা পরিকল্পনা নতুন করে জমা দিতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছে, আগের নকশাগুলোতে খরচ বেশি ধরা হয়েছিল। আগামী বছর যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু করার কথা ছিল, তাদেরও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
নির্মাণশিল্প-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সৌদি আরব হয়তো শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামের সংখ্যা কমিয়ে ফেলতে পারে। ফিফার কাছে দেওয়া প্রস্তাবে ১৫টি স্টেডিয়ামের কথা জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। গত ডিসেম্বরে ফিফা সেটি অনুমোদনও করে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলা হয়েছিল ৮টি স্টেডিয়ামে। অবশ্য আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ১৬টি ভেন্যু থাকছে।
সৌদি আরবের পরিকল্পনায় রিয়াদ, জেদ্দা, আল-খুবর, আভা এবং নিওম সিটিকে কেন্দ্র করে ভেন্যুগুলো সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে ফিউচারিস্টিক প্রজেক্ট 'দ্য লাইন'-এ নিওম স্টেডিয়ামটি তৈরির কথা রয়েছে, যেটি নবায়নযোগ্য শক্তিতে চলবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১টি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ৪টি পুরোনো স্টেডিয়াম সংস্কার করার কথা সৌদির। যুক্তরাজ্যের ফস্টার + পার্টনারস, অরূপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পপুলাস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব নকশার সঙ্গে যুক্ত।
ইতোমধ্যে তিনটি ভেন্যুর কাজ শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাকি স্টেডিয়ামগুলোর কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় পিআইএফ এখন খরচের লাগাম টানছে। এ কারণেই মূলত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে দরপত্র জমা দিতে কিংবা খরচ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—উল্লেখযোগ্য হারে খরচ কমাতে না পারলে তাদের সঙ্গে স্টেডিয়াম নির্মাণের চুক্তি বাতিল করা হতে পারে।
অবশ্য পিআইএফ বিষয়টিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছে। তাদের মতে, ২০৩৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। হাতে এখনো ৯ বছর সময় আছে। তাই তাড়াহুড়া না করে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তেলের দামে পতন ও 'ভিশন ২০৩০'
সৌদি আরবের প্রায় সব বড় অবকাঠামো প্রকল্পই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের 'ভিশন ২০৩০'-এর অংশ। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে পর্যটন ও অন্যান্য শিল্পের দিকে দেশকে এগিয়ে নিতে ২০১৬ সালে এই মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।
এই 'ভিশন ২০৩০' বাস্তবায়নের অর্থের জোগান দেয় পিআইএফ। কিন্তু তাদের আয়ের মূল উৎস এখনো দেশটির বিশাল তেল ও গ্যাসের ভান্ডার। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা কমে গেছে, অন্যদিকে ওপেকভুক্ত দেশগুলোতে জোগান বেড়েছে। ফলে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো জ্বালানির দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির মেগা প্রকল্পগুলোর ওপর।
গত এপ্রিলে পিআইএফ ঘোষণা দিয়েছিল, ২০২৫ সালে তারা অন্তত ২০ শতাংশ খরচ কমাবে। এর ফলে নিওম, কিদিয়া সিটি ও দিরিয়াহর মতো বিশাল বিনোদন ও পর্যটন প্রকল্পগুলোতে এরই মধ্যে অর্থের টান পড়েছে।
সৌদির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, খেলাধুলায় বিনিয়োগকে তারা অগ্রাধিকার দেবে। তবে বিশ্বকাপের প্রকল্পগুলোতেও কাটছাঁটের ধাক্কা কিছুটা লাগবে। উল্লেখ্য, ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড এবং সৌদি প্রো লিগের চারটি বড় ক্লাবের মালিকানা এই পিআইএফের হাতেই।
এসব বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
