ইরানে নতুন যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, সূত্রের বরাতে জানাল এনপিআর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পর পরই নভেম্বরের শুরুর দিকে ইরানে নতুন করে হামলার যৌথ পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধ পরিকল্পনার বিষয়ে অবহিত একটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম– এনপিআর'। অন্যদিকে এধরনের সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা এনপিআর-কে জানান, ইসরায়েল তাদের আসন্ন ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়েই ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যেন পূর্ণাঙ্গ হামলা চালানো যায়, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও সেনা সমাবেশ বহুগুণ বাড়িয়ে চলেছে। তবে এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতিকে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চুক্তি বা সমঝোতায় আসার চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লড়াইয়ে নামা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু— ইরানি শাসনব্যবস্থা ও তাদের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার মূল ট্রাম্পকার্ড বানিয়ে ফেলেছেন।
পরিস্থিতির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, "আমরা কূটনীতির জন্য ঠিক যতটা প্রস্তুত, যুদ্ধের জন্যও ঠিক ততটাই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য আক্রমণের ঝুঁকিসহ যেকোনো দৃশ্যপটই এখন অনুমেয়।"
একই সাথে ইরানের একটি শীর্ষ নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যদি ইরানি কর্মকর্তা কিংবা সাধারণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের পাশাপাশি এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া বা সহায়তা করা দেশগুলোর অবকাঠামো ও সম্পদের ওপর কড়া পাল্টা আঘাত হানবে ইরান।
যুদ্ধের পটভূমি ও হরমুজ প্রণালীর সংকট
চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় ধরণের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল; যেখানে প্রাথমিক আক্রমণেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান।
এরপর থেকে উভয় পক্ষ একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, তা ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের মূল এই নৌপথটি অবরুদ্ধ করে রেখে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ চালিয়ে আসছে ইরান; যার জবাবে দেশটির সব সমুদ্রবন্দর ও তেল পরিবহনের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন হামলায় বিমানবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং নৌবাহিনীসহ ইরানের সামরিক সক্ষমতা বহুলাংশে ধ্বংস হলেও, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের আরব দেশগুলো এবং দূরবর্তী ইসরায়েলের জন্য ইরান এখনও এক বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চল ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটি।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবার সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় যদি আবারো আক্রমণ করে, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
