ইরানে নতুন হামলার ‘খুব কাছাকাছি’ চলে গিয়েছিলেন ট্রাম্প; তবে ইরানের সরকার উৎখাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নেতানিয়াহু
ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর অনুমোদন দিতে খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন—মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দ্য জেরুজালেম পোস্টকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছে। এদিকে, ইরানের সরকার উৎখাতের বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
গত সপ্তাহে জর্জিয়ার আটলান্টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, 'ইরানের বিরুদ্ধে আমরা কী করি, তা দেখতে অপেক্ষা করুন।'
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আর বোমা হামলা চালাবে না। তবে মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, দেরিতে হলেও দেশটিতে আবার বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে মনে করে তেহরান।
মঙ্গলবার নেতানিয়াহু জানান, রোববার (১৮ অক্টোবর) ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। আলোচনায় ইরানের সরকার উৎখাতের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন তারা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, 'ইরানের সরকারকে সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করার কাজ শেষ করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আমি বহুবার আলোচনা করেছি। সর্বশেষ আলোচনা হয়েছে গত পরশু।'
কিরিয়াত শমোনা-তেল হাই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইরানের ইসলামি সরকার পতনের পাশাপাশি হিজবুল্লাহরও অবসান ঘটবে এবং লেবাননের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
নেতানিয়াহু বলেন, 'আমাদের বীর সেনাদের সাহসিকতা এবং এখানে পরিচালিত সামরিক অভিযানের কারণে উত্তর ইসরায়েলের পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। আমরা ভূগর্ভে ও ভূপৃষ্ঠে থাকা সন্ত্রাসীদের বিশাল অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'তবে আমরা কাজটি শেষ করতেও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এর অর্থ হলো, ইরানের সন্ত্রাসী সরকারের পতন ঘটানো, যা এই বিষাক্ত অক্টোপাসের মাথা। মাথাটি বিচ্ছিন্ন করে দিলেই পুরো অক্টোপাসের পতন ঘটবে।'
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সরকার 'এতটাই ধর্মোন্মাদ' যে—'এটি যতদিন টিকে আছে, ততদিন' পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা অব্যাহত রাখবে এবং আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করবে।
নেতানিয়াহু বলেন, 'এটি ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো এই সরকারের পতন ঘটানো। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহরও অবসান ঘটবে।'
